Loading...

তিন বছরের রূপান্তরকাল পর্যন্ত বহাল থাকবে বর্তমান সুবিধা
রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন-২০২৬’ সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের একটি অধিবেশনে তিনি এ তথ্য জানান।


স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পরও যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের ৯২ শতাংশ পণ্য শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে। এই সুবিধার আওতায় দেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাকও থাকবে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ কুক।
রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন-২০২৬’ সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের একটি অধিবেশনে তিনি এ তথ্য জানান।
সারাহ কুক বলেন, বর্তমানে যুক্তরাজ্যের ডেভেলপিং কান্ট্রিজ ট্রেডিং স্কিমের (ডিসিটিএস) আওতায় বাংলাদেশের ৯৯ দশমিক ৮ শতাংশ পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধা পাচ্ছে। জাতিসংঘের এলডিসি তালিকা থেকে উত্তরণের পর আরও তিন বছর বর্তমান সুবিধা অপরিবর্তিত থাকবে। এরপর বাংলাদেশ ডিসিটিএসের ‘এনহ্যান্সড প্রেফারেন্সেস’ স্তরে প্রবেশ করবে। ওই ব্যবস্থায় তৈরি পোশাকসহ ৯২ শতাংশ পণ্য শুল্কমুক্তভাবে যুক্তরাজ্যে রপ্তানি করা যাবে।
যুক্তরাজ্য সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী, ডিসিটিএসের ‘কমপ্রিহেনসিভ প্রেফারেন্সেস’ স্তরে থাকা এলডিসিগুলো অস্ত্র ও গোলাবারুদ ছাড়া ৯৯ দশমিক ৮ শতাংশ পণ্যে শূন্য শুল্ক সুবিধা পায়। কোনো দেশ এলডিসি থেকে উত্তীর্ণ হলে তিন বছরের রূপান্তরকাল শেষে ‘এনহ্যান্সড প্রেফারেন্সেস’ স্তরে যায়। সেখানে ৯২ শতাংশ পণ্যশ্রেণিতে শূন্য শুল্ক বহাল থাকে।

বাংলাদেশ ২০২৬ সালে এলডিসি থেকে উত্তীর্ণ হলে ২০২৯ সাল পর্যন্ত বর্তমান ৯৯ দশমিক ৮ শতাংশ শুল্কমুক্ত সুবিধা অব্যাহত থাকার কথা। এরপর নতুন স্তরের সুবিধা কার্যকর হবে। যুক্তরাজ্য তৈরি পোশাকের উৎসবিধিও সহজ করেছে। ফলে উত্তরণের পর পোশাক রপ্তানিতে বর্তমানে প্রযোজ্য উৎসবিধির সুবিধা বহাল থাকবে এবং কাঁচামাল সংগ্রহের ক্ষেত্রেও রপ্তানিকারকেরা তুলনামূলক বেশি নমনীয়তা পাবেন।
ব্রিটিশ হাইকমিশনার বলেন, যুক্তরাজ্যের কাছে বাংলাদেশ একটি কৌশলগত ও বিশ্বস্ত অংশীদার। দুই দেশের সম্পর্ক এখন আরও আধুনিক ও কৌশলগত অংশীদারত্বে উন্নীত হয়েছে। অর্থ, তৈরি পোশাক, শিক্ষা ও জ্বালানিসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে ব্রিটিশ কোম্পানিগুলো বিনিয়োগের পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখছে।
নিরাপত্তা সহযোগিতার প্রসঙ্গে সারাহ কুক বলেন, অবাধ ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল গড়ে তোলার ক্ষেত্রে দুই দেশের অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে। বঙ্গোপসাগরের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত গুরুত্ব এবং সেখানে বাংলাদেশের ভূমিকা যুক্তরাজ্য স্বীকার করে। অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, সাইবার নিরাপত্তা ও জলবায়ুজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান হিসেবে পরিস্থিতি অনুকূল হলে তাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও মর্যাদাপূর্ণভাবে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের কথা বলেন সারাহ কুক। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবিলায় বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
নবোদয়/ এআরজে/ জেডআরসি/ ০৪ অক্টোবর ২০২৬