Loading...

আক্রান্ত লাখ ছুঁইছুঁই
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোববারের ডেঙ্গুবিষয়ক বুলেটিন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ১৯৩ জন, যা চলতি বছরের এক দিনে সর্বোচ্চ। নতুন চার মৃত্যু নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩০৩ জনে।


দেশে ডেঙ্গুর পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা ৩০০ ছাড়ানোর পাশাপাশি হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যাও লাখের কাছাকাছি পৌঁছেছে। বিশেষ করে অক্টোবরের শুরুতেই আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার বেড়ে যাওয়ায় নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে স্বাস্থ্যব্যবস্থায়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোববারের ডেঙ্গুবিষয়ক বুলেটিন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ১৯৩ জন, যা চলতি বছরের এক দিনে সর্বোচ্চ। নতুন চার মৃত্যু নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩০৩ জনে।
মৃত্যুর হিসাবে অক্টোবরের প্রথম ১০ দিনেই মারা গেছেন ৫৮ জন। এর আগে সেপ্টেম্বরে ১৪৮ জনের মৃত্যু হয়, যা চলতি বছরে এক মাসে সর্বোচ্চ। আগস্টে ৪৩, জুলাইয়ে ৩৬ এবং জুনে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় ২ হাজার ১৯৩ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় চলতি বছর মোট হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৯ হাজার ২৭৫ জনে। অর্থাৎ, আক্রান্তের সংখ্যা লাখ ছুঁতে বাকি মাত্র ৭২৫ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ হাজার ৭৯৬ জন। এ নিয়ে মোট সুস্থ হয়েছেন ৯২ হাজার ৪০৩ জন।

নতুন রোগী ভর্তির চাপ সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে। গত ২৪ ঘণ্টায় এ বিভাগে ১ হাজার ৩০ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এরপর খুলনায় ৩০৪, চট্টগ্রামে ২৯৩, বরিশালে ২৩৬, রাজশাহীতে ১৬০, রংপুরে ৮৪ এবং ময়মনসিংহে ৭০ জন ভর্তি হয়েছেন।
পরিসংখ্যান বলছে, বর্ষা শেষ হওয়ার পরও ডেঙ্গুর প্রকোপ কমার বদলে আরও তীব্র হচ্ছে। একদিকে দৈনিক হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা বাড়ছে, অন্যদিকে মৃত্যুর সংখ্যাও দ্রুত যোগ হচ্ছে। ফলে হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ সামলানোর পাশাপাশি গুরুতর রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।
চলতি বছরের শুরু থেকেই ডেঙ্গুর সংক্রমণ ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঊর্ধ্বগতি পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। বিশেষ করে এক দিনে দুই হাজারের বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি এবং মাসের প্রথম ১০ দিনেই ৫৮ জনের মৃত্যু জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় সতর্কসংকেত।
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে তাই শুধু আক্রান্তদের চিকিৎসার ওপর নির্ভর করলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হবে। মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং আক্রান্ত এলাকা চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার ওপরই এখন গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ হাসপাতালের শয্যা বাড়িয়ে ডেঙ্গুর বিস্তার থামানো যায় না, সংক্রমণের উৎসেই আঘাত করতে হয়।
নবোদয়/ এআরজে/ জেডআরসি/ ১১ অক্টোবর ২০২৬