Loading...

প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ
২৪২টি পদের বিপরীতে এই নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল বিপুলসংখ্যক চাকরিপ্রার্থীর। রাজধানীর প্রায় ১০০টি কেন্দ্রে একযোগে পরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তুতি ছিল। কিন্তু পরীক্ষা শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্ভাব্য প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি বদলে যায়।


প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠার পর পরীক্ষা শুরুর মাত্র কয়েক মিনিট আগে স্থগিত করা হয়েছে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষা। শনিবার বেলা ১১টায় পরীক্ষা শুরুর কথা থাকলেও তার আগেই এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও সাতমসজিদ সড়ক অবরোধ করেন পরীক্ষার্থীরা।
২৪২টি পদের বিপরীতে এই নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল বিপুলসংখ্যক চাকরিপ্রার্থীর। রাজধানীর প্রায় ১০০টি কেন্দ্রে একযোগে পরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তুতি ছিল। কিন্তু পরীক্ষা শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্ভাব্য প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি বদলে যায়।
পরীক্ষার্থীদের কয়েকজন জানান, কেন্দ্রে প্রশ্নপত্র দেওয়ার পরপরই পরীক্ষকরা পরীক্ষা স্থগিতের কথা জানান। সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে আসা এক চাকরিপ্রার্থী বলেন, পরীক্ষা শুরুর প্রায় এক মিনিট আগে তাঁদের জানানো হয় পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। তিনি শুনেছেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আরেক পরীক্ষার্থী জানান, প্রশ্নপত্র বিতরণের সময় শিক্ষকরা তাঁদের বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার অভিযোগ থাকায় পরীক্ষা নেওয়া হবে না। এতে দূরদূরান্ত থেকে আসা পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়।
পরীক্ষা স্থগিতের প্রতিবাদে বেলা সোয়া ১১টার দিকে সাতমসজিদ সড়কে এবং সাড়ে ১১টার দিকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে অবস্থান নেন পরীক্ষার্থীরা। এতে ওই দুই সড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশাসন উইংয়ের পরিচালক ডি এম আতিকুর রহমান জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দেখার পর পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ছড়িয়ে পড়া প্রশ্নের সঙ্গে পরীক্ষার প্রশ্নের মিল পাওয়া গেছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, পুরো প্রশ্ন দেওয়া হয়নি, তবে যতটুকু দেওয়া হয়েছে তার সঙ্গে মিল পাওয়া গেছে। অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন-৫) মো. মাজহারুল হক জানান, পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে এবং আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যেই নতুন পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হবে।
এর আগে শুক্রবার রাত থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্ভাব্য প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে এ নিয়ে ফেসবুকে পোস্টও দেন। তবে প্রশ্নটি কীভাবে বাইরে গেল বা এর সঙ্গে কারা জড়িত, সে বিষয়ে এখনো কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
পরীক্ষা বাতিলের ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন চাকরিপ্রার্থীরা। নির্ধারিত সময়ের পরীক্ষা সামনে রেখে অনেকে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ঢাকায় এসেছিলেন। শেষ মুহূর্তে পরীক্ষা স্থগিত হওয়ায় তাঁদের মধ্যে ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন তারিখ নির্ধারণের পর তা জানিয়ে দেওয়া হবে। তবে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের তদন্ত ও এর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা হবে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
নিয়োগ পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি আয়োজন শুরুর ঠিক আগে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে স্থগিত হওয়ায় নিয়োগ প্রক্রিয়ার নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
নবোদয়/ এআরজে/ জেডআরসি/ ১০ অক্টোবর ২০২৬