Loading...

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি থেকে গত বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবকে এ বিষয়ে চিঠি পাঠানো হয়। এতে ইসলামিক ফাউন্ডেশন এবং হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সমন্বয়ে প্রচারণার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।


দেশব্যাপী ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় পরিবারভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ শুরু হচ্ছে সোমবার (১২ অক্টোবর)। সরকারের প্রশিক্ষিত ও পরিচয়পত্রধারী কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থার তথ্য নেবেন। এ কার্যক্রম সম্পর্কে মানুষকে জানাতে মসজিদ, মন্দির, প্যাগোডা ও গির্জার মাধ্যমে প্রচারণার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি থেকে গত বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবকে এ বিষয়ে চিঠি পাঠানো হয়। এতে ইসলামিক ফাউন্ডেশন এবং হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সমন্বয়ে প্রচারণার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। চিঠির সঙ্গে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোয় প্রচারের জন্য বার্তাও পাঠানো হয়েছে।
প্রচারণার বার্তা অনুযায়ী, তথ্য সংগ্রহকারীরা প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে পরিবারের অবস্থা সম্পর্কে বিভিন্ন প্রশ্ন করবেন। সাধারণ মানুষকে পরিবারের প্রকৃত আর্থসামাজিক অবস্থার তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। পরিবারের প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা নির্ধারণে এসব তথ্য ব্যবহার করা হবে বলে বার্তায় উল্লেখ রয়েছে। তথ্য সংগ্রহের দায়িত্বে থাকা কর্মীরা প্রশিক্ষিত ও পরিচয়পত্রধারী হবেন।
বার্তায় তথ্য কম-বেশি করে দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। বলা হয়েছে, ভুল তথ্যের কারণে প্রকৃত অভাবী পরিবারের অধিকার ক্ষুণ্ন হতে পারে। এ জন্য নিজেদের অবস্থা সম্পর্কে সঠিক তথ্য দিয়ে তথ্য সংগ্রহকারীদের সহযোগিতা করতে বলা হয়েছে। সহায়তার প্রয়োজন নির্ধারণের ক্ষেত্রে পরিবারের প্রকৃত অবস্থা তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ফ্যামিলি কার্ডের তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কেউ অর্থ চাইলে তা বিশ্বাস না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রচারণার বার্তায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, তথ্য দিতে কোনো টাকা লাগবে না। তথ্য সংগ্রহ বা তালিকায় নাম ওঠানোর নামে কেউ অর্থ দাবি করলে ১০৯৮ নম্বরে জানানোর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
মসজিদে জুমার নামাজের আগে তিন মিনিটের ঘোষণার জন্য আলাদা বার্তা তৈরি করা হয়েছে। এতে পরিবারগুলোর প্রকৃত তথ্য দেওয়ার পাশাপাশি অর্থের বিনিময়ে তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার আশ্বাস থেকে সতর্ক থাকার কথা বলা হয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সমন্বয়ে দেশের মসজিদগুলোতে এই বার্তা পৌঁছে দেওয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানিয়েছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়।
মন্দির, গির্জা ও বৌদ্ধবিহারে দুই মিনিটের ঘোষণার মাধ্যমে কর্মসূচির তথ্য জানাতে বলা হয়েছে। এসব বার্তায় সঠিক তথ্য দেওয়ার পাশাপাশি বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী প্রতিবেশীদের খোঁজ নেওয়ার আহ্বান রয়েছে। তথ্য সংগ্রহের সময় তাঁরা যেন বাদ না পড়েন, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টগুলোর মাধ্যমে প্রচারের ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের চিঠির অনুলিপি অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সচিব এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
নবোদয়/ এআরজে/ জেডআরসি/ ১১ অক্টোবর ২০২৬