Loading...

সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষা
রাজধানীর দিলকুশায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ের একটি কক্ষে পরীক্ষার আগের রাতে প্রশ্নপত্র তৈরি, মুদ্রণ ও প্যাকেটজাত করার কাজ চলে। সেখানে নিয়োগ কমিটির পাঁচ সদস্যের পাশাপাশি ভেন্ডর প্রতিষ্ঠান ওএমআরডিএম সিস্টেমের ২০ কর্মী ছিলেন। তাদের মধ্যে ১২ জন মেশিন অপারেটর ও আটজন বাইন্ডিংয়ের কাজে যুক্ত ছিলেন।


সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, এত কড়াকড়ির মধ্যেও প্রশ্ন বাইরে গেল কীভাবে? প্রশ্নপত্র তৈরি থেকে ছাপা ও বাঁধাই, সবই যখন একই কক্ষে হয়েছে এবং সেখানে থাকা ২৫ জনের মোবাইল ফোনও নিয়ে নেওয়া হয়েছিল, তখন নিরাপত্তার কোথায় ফাঁক ছিল, সেটিই খুঁজছে তদন্ত কমিটি।
রাজধানীর দিলকুশায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ের একটি কক্ষে পরীক্ষার আগের রাতে প্রশ্নপত্র তৈরি, মুদ্রণ ও প্যাকেটজাত করার কাজ চলে। সেখানে নিয়োগ কমিটির পাঁচ সদস্যের পাশাপাশি ভেন্ডর প্রতিষ্ঠান ওএমআরডিএম সিস্টেমের ২০ কর্মী ছিলেন। তাদের মধ্যে ১২ জন মেশিন অপারেটর ও আটজন বাইন্ডিংয়ের কাজে যুক্ত ছিলেন।
কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, কক্ষে ঢোকার আগে সবার মোবাইল ফোন নিয়ে নেওয়া হয়। বন্ধ রাখা হয় ইন্টারনেট সংযোগও। প্রশ্নপত্র তৈরির জন্য ছিল অধিদপ্তরের একটি ল্যাপটপ এবং ভেন্ডর প্রতিষ্ঠানের ১২টি হাইস্পিড ফটোকপি মেশিন। কক্ষের বাইরে যাতায়াতও নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছিল।
তারপরও পরীক্ষার আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নপত্রের ছবি ছড়িয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত স্থগিত করা হয় সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষা।
এখন তদন্তকারীদের সামনে মূল প্রশ্ন, প্রশ্নপত্রটি ওই কক্ষ থেকেই বাইরে গেল, নাকি অন্য কোনো পর্যায়ে নিরাপত্তা ভেঙেছে। প্রশ্নপত্র তৈরির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত পাঁচ সদস্য, ভেন্ডর প্রতিষ্ঠানের ২০ কর্মীসহ সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নেওয়া হচ্ছে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগও ফরেনসিক বিশ্লেষণে যুক্ত হয়েছে।
ছড়িয়ে পড়া প্রশ্নপত্রের ছবিতে একটি হাত ও আঙুলের অংশ দেখা যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। সেই আলামতও পরীক্ষা করছে সিআইডি। তবে এখন পর্যন্ত প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে কারা জড়িত, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন জানিয়েছেন, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের জবানবন্দি নেওয়া হচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তিনি।
এ ঘটনায় মতিঝিল থানায় মামলা করেছে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর। পাশাপাশি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিবকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, মুদ্রণ ও বিতরণের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বাইরের সহায়তাকারীদের ভূমিকা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনাটি আবারও সরকারি নিয়োগ পরীক্ষার নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে ২০২০ সালে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের নিয়োগ পরীক্ষা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে নেওয়ার বিধান বাতিল হওয়ার পর নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষা আয়োজনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও জবাবদিহির কাঠামো কতটা কার্যকর, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে।
জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ফিরোজ মিয়ার মতে, শুধু প্রশাসনিক তদন্তে সীমাবদ্ধ না থেকে ফৌজদারি তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের শনাক্ত করা জরুরি। কারণ প্রশ্ন ফাঁস শুধু একটি পরীক্ষাকে স্থগিত করে না, এর সঙ্গে যুক্ত থাকে হাজারো চাকরিপ্রার্থীর সময়, অর্থ ও ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা।
স্থগিত পরীক্ষাটি আগামী ১৬ অক্টোবর শুক্রবার বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে নতুন পরীক্ষার তারিখ ঘোষণার পাশাপাশি এখন সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা, প্রশ্ন ফাঁসের উৎস শনাক্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া।
নবোদয়/ এআরজে/ জেডআরসি/ ১১ অক্টোবর ২০২৬