Loading...

৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নতুন কর্মী নিয়োগ ও ওয়ার্ক পারমিট বন্ধ
লাওসে বাংলাদেশি কর্মীদের প্রবেশ নিয়ে নতুন এই বিধিনিষেধের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে থাইল্যান্ডে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস। লাওসে বাংলাদেশের পৃথক দূতাবাস না থাকায় ব্যাংককের বাংলাদেশ মিশন দেশটিতে বাংলাদেশের কূটনৈতিক দায়িত্ব পালন করে।


বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য নতুন শ্রমিক নিয়োগ, কাজের অনুমতিপত্র বা ওয়ার্ক পারমিট অনুমোদন এবং শ্রমিক শ্রেণির প্রবেশ ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে লাওস। গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া এই সিদ্ধান্ত আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকবে।
লাওসে বাংলাদেশি কর্মীদের প্রবেশ নিয়ে নতুন এই বিধিনিষেধের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে থাইল্যান্ডে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস। লাওসে বাংলাদেশের পৃথক দূতাবাস না থাকায় ব্যাংককের বাংলাদেশ মিশন দেশটিতে বাংলাদেশের কূটনৈতিক দায়িত্ব পালন করে।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, লাওসের শ্রম ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় গত ৯ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা জারি করে। এতে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন নিয়োগ কোটা, কর্মী আমদানি পরিকল্পনা, শ্রম প্রকল্প ও ওয়ার্ক পারমিট অনুমোদন বন্ধ রাখার কথা জানানো হয়। পাশাপাশি শ্রমিক শ্রেণির প্রবেশ ভিসা এলএ-বি২ প্রদানও স্থগিত করা হয়েছে।
লাওস সরকারের নির্দেশনায় অবৈধভাবে দেশটিতে প্রবেশ, মানব পাচার, অননুমোদিত দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগীদের তৎপরতা এবং বিদেশি কর্মীদের দায়িত্ব গ্রহণে নিয়োগকর্তাদের অনীহাকে এই সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সরকারি অনুমোদন পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ও নির্দিষ্ট মেয়াদের অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্পগুলো নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকতে পারে।

বাংলাদেশ দূতাবাস বিষয়টি যাচাই করতে লাওসের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, শ্রমবাজার স্থগিত হওয়ার আগে যাঁরা বৈধ ভিসা পেয়েছিলেন, এই সময়ে কেবল তাঁদের ক্ষেত্রে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। নতুন করে কোনো বাংলাদেশি কর্মীর জন্য ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছে না।
এ অবস্থায় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত লাওসে কাজের উদ্দেশ্যে যেতে ইচ্ছুক বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকতে বলেছে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়। কোনো ব্যক্তি, দালাল কিংবা রিক্রুটিং এজেন্সি নতুন শ্রম ভিসা বা ওয়ার্ক পারমিট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলে সরকারি দপ্তরের মাধ্যমে তা যাচাই করতে বলা হয়েছে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, স্থগিতাদেশ চলাকালে ভুয়া ভিসা, জাল চাকরির প্রস্তাব এবং অননুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে প্রতারণার ঝুঁকি বেশি। তাই চাকরি নিশ্চিত করার নামে অগ্রিম অর্থ প্রদান, পাসপোর্ট হস্তান্তর কিংবা কোনো চুক্তিতে সই করার আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের অনুমোদন যাচাই করতে হবে।
আগামী ৩১ ডিসেম্বরের পর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, বাড়ানো কিংবা নতুন কোনো নির্দেশনা দেওয়া হবে কি না, তা এখনো জানায়নি লাওস সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত বর্তমান স্থগিতাদেশই কার্যকর থাকবে।
নবোদয়/ এআরজে/ জেডআরসি/ ০৭ অক্টোবর ২০২৬