Loading...

আহত হয়েছেন ৩৬ জন
মিয়ানমারের রাখাইনে স্থলযুদ্ধের পাশাপাশি বিমান হামলার ঝুঁকি দীর্ঘদিনের। এবার হামলার খবর এসেছে একটি বাজারের কাছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) কিয়াকতাও শহরে ওই হামলায় অন্তত ৩৩ জন নিহত ও ৩৬ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে এলাকাটির নিয়ন্ত্রণে থাকা আরাকান আর্মি। স্থানীয় এক ত্রাণকর্মীও বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে একই হতাহতের হিসাব দিয়েছেন।


মিয়ানমারের রাখাইনে স্থলযুদ্ধের পাশাপাশি বিমান হামলার ঝুঁকি দীর্ঘদিনের। এবার হামলার খবর এসেছে একটি বাজারের কাছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) কিয়াকতাও শহরে ওই হামলায় অন্তত ৩৩ জন নিহত ও ৩৬ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে এলাকাটির নিয়ন্ত্রণে থাকা আরাকান আর্মি। স্থানীয় এক ত্রাণকর্মীও বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে একই হতাহতের হিসাব দিয়েছেন।
ত্রাণকর্মী ওয়াই হুন অংয়ের একটি দল ঘটনাস্থলে কাজ করছে। তার মতে, শহরের যে অংশে হামলা হয়েছে, সেটি সক্রিয় যুদ্ধক্ষেত্র থেকে দূরে।
মিয়ানমার সরকারের মুখপাত্রের কাছে মন্তব্য চেয়েও তাৎক্ষণিক জবাব পায়নি রয়টার্স। সামরিক কর্তৃপক্ষ আগে দাবি করেছে, বেসামরিক মানুষের ক্ষতি এড়াতে তারা সর্বোচ্চ সংযম দেখায়। সোমবারের হামলায় তাদের উদ্দেশ্য কী ছিল, সে বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমারের বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। রাখাইনে আরাকান আর্মি সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করে রাজ্যটির বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। কিন্তু ভূমির নিয়ন্ত্রণ বদলালেও আকাশ থেকে হামলার আশঙ্কা কাটেনি। কিয়াকতাওয়ের ঘটনা তাই যুদ্ধক্ষেত্রের সামনের সারি থেকে দূরে থাকা মানুষের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। এটি পরিস্থিতি থেকে পাওয়া একটি পর্যবেক্ষণ; হামলাটির সামরিক উদ্দেশ্য এখনো জানা যায়নি।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডেমোক্র্যাটিক ভয়েস অব বার্মা জানিয়েছে, বাজারের পাশেই কালাদান নদীর ওপর কিসাপানাদি সেতু। সেতুটি কিয়াকতাওয়ের সঙ্গে রাখাইনের আরও কয়েকটি শহরের সড়ক যোগাযোগের অংশ। বাজার ও সেতু কাছাকাছি হলেও কোনটি হামলার লক্ষ্য ছিল, তা নিশ্চিত নয়। সেতুর অবস্থান দেখে হামলার উদ্দেশ্য অনুমান করা যেমন ঠিক হবে না, তেমনি বাজারের কাছে হতাহতের তথ্যও উপেক্ষা করা যায় না।
রাখাইনে বেসামরিক স্থাপনার ওপর হামলার নজির রয়েছে। গত ডিসেম্বরে ম্রাউক-উ শহরের একটি হাসপাতালে বিমান হামলায় ৩০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুর কথা জানিয়েছিল জাতিসংঘ। আগস্টে জাতিসংঘের মিয়ানমারবিষয়ক স্বাধীন তদন্ত সংস্থা জানায়, সামরিক বাহিনীর বেসামরিক মানুষের ওপর পরিকল্পিত বিমান হামলার ধারাবাহিকতার প্রমাণ তারা পেয়েছে। তবে সোমবারের কিয়াকতাও হামলার বিষয়ে সংস্থাটি কোনো তদন্তের ফল প্রকাশ করেনি।
যুদ্ধের আইনেও বেসামরিক মানুষ ও সামরিক লক্ষ্য আলাদা করতে হয়। আন্তর্জাতিক রেডক্রসের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, হামলার সময় সাধারণ মানুষের সম্ভাব্য ক্ষতি কমাতে সতর্কতা নেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
বাংলাদেশের জন্য রাখাইনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের সঙ্গেও জড়িত। হামলার চার দিন আগে, ২৪ সেপ্টেম্বর, জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্ত সংস্থা বলেছিল, রাখাইন এখনো বাস্তুচ্যুত মানুষের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ ফেরার উপযুক্ত নয়। সংস্থাটির মতে, সেখানে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের বেসামরিক মানুষ বিমান হামলাসহ নানা সহিংসতার শিকার হচ্ছেন। সোমবার নিহত ব্যক্তিদের জাতিগত পরিচয় প্রকাশিত হয়নি।
২০১৭ সালে রাখাইন থেকে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিলেন। সেই সংকটের সমাধান নির্ভর করে তাদের নিজ এলাকায় নিরাপত্তার ওপর। কিয়াকতাও টেকনাফের ঠিক বিপরীতের শহরও নয়। তবে রাখাইনে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়ার যে বাস্তবতা জাতিসংঘ তুলে ধরেছে, নতুন হতাহতের খবর তা আবার সামনে এনেছে।
নবোদয়/ এসএন/ ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬