Loading...

৪৯ জেলায় আকস্মিক বন্যার সতর্কতা
ভারতের উত্তর প্রদেশে ২৫ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর সকাল পর্যন্ত বৃষ্টিজনিত বিভিন্ন ঘটনায় অন্তত ৫৬ জন মারা গেছেন। আহত হয়েছেন আরও ৪৬ জন। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় এক হাজারের বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা ও বন্যাসদৃশ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।


মৌসুমি বৃষ্টির শেষ পর্যায়ে ভারত ও নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকায় নতুন করে দুর্যোগ দেখা দিয়েছে। টানা ভারী বৃষ্টি ও ঝড়ের পর সৃষ্ট বন্যা, ভূমিধস এবং বৃষ্টিজনিত বিভিন্ন ঘটনায় দুই দেশে অন্তত ৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঘরবাড়ি, ফসল, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও যোগাযোগ অবকাঠামো।
ভারতের উত্তর প্রদেশে ২৫ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর সকাল পর্যন্ত বৃষ্টিজনিত বিভিন্ন ঘটনায় অন্তত ৫৬ জন মারা গেছেন। আহত হয়েছেন আরও ৪৬ জন। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় এক হাজারের বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা ও বন্যাসদৃশ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
উত্তর প্রদেশের ত্রাণ কমিশনার হৃষিকেশ ভাস্কর যশোদ জানিয়েছেন, ওই সময়ে রাজ্যটিতে গড়ে ৬৬ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৭ দশমিক ৬ মিলিমিটার। অর্থাৎ স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৭৭৫ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হয়েছে।
বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালাচ্ছে রাজ্য প্রশাসন। ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। অতিবৃষ্টিতে ফসলের কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তা নির্ধারণ করে কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এদিকে নেপালে বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও ১১ জন। নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় দেশটির ৭৭ জেলার মধ্যে ৪৯টিতে আকস্মিক বন্যার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এর মধ্যে অর্ধেকের বেশি জেলা উচ্চমাত্রার বন্যা বা ফ্ল্যাশ ফ্লাডের ঝুঁকিতে রয়েছে।
নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রধান নদী ও শাখা নদীগুলোর পানি অব্যাহতভাবে বাড়ছে। আগের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত রাসুয়া ও নুয়াকোটসহ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
বন্যার কারণে মানাং, মুস্তাং, মিয়াগদি ও বাগলুং জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। রাহুগঙ্গা নদীর পানি বেড়ে মিয়াগদির ৪০ মেগাওয়াট ক্ষমতার রাহুঘাট জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের অবকাঠামো ও সঞ্চালন টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রকল্পটি সম্প্রতি জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছিল।
অপটিক্যাল ফাইবার ও বিদ্যুৎ সংযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কয়েকটি এলাকায় টেলিযোগাযোগও বিচ্ছিন্ন রয়েছে। পৃথকভাবে উত্তরাঞ্চলীয় মানাং জেলার হিমলুং হিমাল পর্বতের বেস ক্যাম্পে তুষারধসে ১০ স্থানীয় কর্মী নিখোঁজ হয়েছেন। বিদেশি পর্বতারোহীদের জন্য তাঁবু স্থাপনের সময় তাঁরা তুষারধসের কবলে পড়েন।
নবোদয়/ এআরজে/ জেডআরসি/ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬