Loading...

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২৩ সালের প্রাক্কলন
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সর্বশেষ ‘গ্লোবাল হেলথ এস্টিমেটস’-এ এই চিত্র উঠে এসেছে। গত ২ অক্টোবর প্রকাশিত প্রাক্কলনটিতে ২০০০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন দেশের গড় আয়ু, মৃত্যুর কারণ ও রোগের প্রভাব বিশ্লেষণ করা হয়েছে।


বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া একটি শিশু বর্তমান মৃত্যুহারের ধারা অপরিবর্তিত থাকলে গড়ে ৭২ দশমিক ৭ বছর বাঁচবে। একই হিসাবে ভারতে জন্ম নেওয়া শিশুর প্রত্যাশিত আয়ু ৭১ বছর এবং পাকিস্তানে ৬৮ দশমিক ২ বছর। অর্থাৎ, গড় আয়ুর হিসাবে দক্ষিণ এশিয়ার বড় দুই প্রতিবেশীর চেয়ে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সর্বশেষ ‘গ্লোবাল হেলথ এস্টিমেটস’-এ এই চিত্র উঠে এসেছে। গত ২ অক্টোবর প্রকাশিত প্রাক্কলনটিতে ২০০০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন দেশের গড় আয়ু, মৃত্যুর কারণ ও রোগের প্রভাব বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এটি কোনো সরাসরি শুমারি নয়; বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উৎসের তথ্য বিশ্লেষণ করে তৈরি পরিসংখ্যানভিত্তিক প্রাক্কলন।
২০২৩ সালে বৈশ্বিক গড় আয়ু ছিল ৭৩ দশমিক ৩ বছর। সে হিসাবে বাংলাদেশের গড় আয়ু বিশ্ব গড়ের চেয়ে শূন্য দশমিক ৬ বছর কম। উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে ব্যবধান আরও বড়। যুক্তরাষ্ট্রে গড় আয়ু ৭৮ দশমিক ৫ বছর এবং কানাডায় ৮১ দশমিক ৪ বছর।
গড় আয়ু বলতে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি ঠিক কত বছর বাঁচবেন, তা বোঝায় না। একটি দেশের নির্দিষ্ট বছরের মৃত্যুহার অপরিবর্তিত থাকলে নবজাতকেরা গড়ে কত বছর বাঁচতে পারেন, তার পরিসংখ্যানগত ধারণা দেয় এই সূচক। তাই ব্যক্তিগত জীবনকাল নির্ভর করে স্বাস্থ্য, জীবনযাপন, আয়, পরিবেশ ও চিকিৎসাসেবাসহ আরও অনেক বিষয়ের ওপর।
করোনা মহামারির ধাক্কা কাটিয়ে বৈশ্বিক গড় আয়ু প্রায় আগের অবস্থানে ফিরেছে। ২০১৯ সালে বিশ্বে গড় আয়ু ছিল ৭৩ দশমিক ৪ বছর। করোনার প্রভাবে ২০২১ সালে তা কমে ৭১ দশমিক ৫ বছরে নামে। ২০২৩ সালে আবার বেড়ে ৭৩ দশমিক ৩ বছর হয়েছে।

তবে বেশি দিন বাঁচা আর সুস্থভাবে বাঁচা এক বিষয় নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে, ২০২৩ সালে বৈশ্বিক সুস্থ গড় আয়ু ছিল ৬২ দশমিক ৮ বছর, যা ২০১৯ সালের তুলনায় এখনো শূন্য দশমিক ৪ বছর কম। গড় আয়ু ও সুস্থ গড় আয়ুর সরল ব্যবধান প্রায় সাড়ে ১০ বছর। অর্থাৎ, মানুষের জীবনের একটি উল্লেখযোগ্য সময় রোগ বা শারীরিক সীমাবদ্ধতার মধ্যে কাটতে পারে।
এই ব্যবধানের পেছনে অসংক্রামক রোগের ক্রমবর্ধমান প্রভাব রয়েছে। ২০২৩ সালে বিশ্বে মোট মৃত্যুর ৭৪ শতাংশ ঘটেছে হৃদ্রোগ, ক্যানসার, ডায়াবেটিস ও দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসতন্ত্রের রোগসহ অসংক্রামক ব্যাধিতে। ২০০০ সালে এ হার ছিল ৫৮ শতাংশ। বিশ্বের প্রধান ১০টি মৃত্যুর কারণের আটটিই এখন অসংক্রামক রোগ। শুধু ইসকেমিক হৃদ্রোগেই ২০২৩ সালে প্রায় ৯৫ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ডায়াবেটিসে মৃত্যুঝুঁকিও বেড়েছে।
বাংলাদেশের গড় আয়ু ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে বেশি হওয়া তুলনামূলকভাবে ইতিবাচক অবস্থান নির্দেশ করে। তবে একটি সূচক দিয়ে দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার মান নির্ধারণ করা যায় না। চিকিৎসাসেবার সুযোগ, স্বাস্থ্যব্যয়, রোগের চাপ এবং সুস্থভাবে বেঁচে থাকার সময়ও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য বিভাগের পরিচালক ডা. অ্যালাইন ল্যাবরিকের ভাষায়, মানুষের দীর্ঘ জীবন জনস্বাস্থ্যের বড় অর্জন। এখন মূল চ্যালেঞ্জ হলো—বাড়তি বছরগুলো যেন সুস্থভাবে কাটে এবং মানুষের পরিবর্তিত স্বাস্থ্যচাহিদা সামলানোর সক্ষমতা স্বাস্থ্যব্যবস্থার থাকে।
নবোদয়/ এআরজে/ জেডআরসি/ ০৪ অক্টোবর ২০২৬