Loading...

মেয়রের আচরণ নিয়ে বিতর্ক
ঘটনাটি ৬ অক্টোবর নগরের চকবাজার–গোলপাহাড় এলাকায় পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযানের সময় ঘটে। অভিযানে ফুটপাত ও সড়ক দখল করে গড়ে ওঠা দোকান, স্থাপনা, বিলবোর্ড ও ব্যানার অপসারণ করা হয়।


চট্টগ্রাম নগরের ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করার অভিযানে দায়িত্ব পালনরত এক ট্রাফিক পুলিশ সদস্যকে প্রকাশ্যে ভর্ৎসনা এবং চাকরি খাওয়ার হুমকি দেওয়ার ঘটনায় তৈরি হয়েছে বিতর্ক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেনকে ওই সদস্যের উদ্দেশে বলতে শোনা যায়, “কিসের চাকরি করতেছ? আমি তোমার চাকরিসহ নট করে দিব…আমি লাস্ট ওয়ার্নিং দিচ্ছি।”
ঘটনাটি ৬ অক্টোবর নগরের চকবাজার–গোলপাহাড় এলাকায় পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযানের সময় ঘটে। অভিযানে ফুটপাত ও সড়ক দখল করে গড়ে ওঠা দোকান, স্থাপনা, বিলবোর্ড ও ব্যানার অপসারণ করা হয়। একটি গাড়ি অবৈধভাবে পার্কিং করা দেখে মেয়র চালককে কান ধরে ১০ বার ওঠবস করতে বলেন। পরে সেখানে দায়িত্বে থাকা ট্রাফিক সদস্যকে প্রকাশ্যে ভর্ৎসনা করেন। ভিডিওতে পুলিশ সদস্যকে কোনো প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে সংযত অবস্থায় থাকতে দেখা যায়।
একই অধ্যাদেশের ৮ ধারা অনুযায়ী পরিদর্শক নিয়োগ করেন পুলিশের মহাপরিদর্শক এবং অন্য অধস্তন পুলিশ সদস্যদের নিয়োগ দেন পুলিশ কমিশনার কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত উপপুলিশ কমিশনার বা তাঁর চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। এই প্রশাসনিক কাঠামোয় সিটি মেয়রের কোনো অবস্থান নেই।
অধ্যাদেশটির ১২ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো অধস্তন পুলিশ সদস্য দায়িত্বে অবহেলা, শৃঙ্খলাভঙ্গ বা অসদাচরণের জন্য দোষী প্রমাণিত হলে লিখিত কারণ উল্লেখ করে পুলিশ কমিশনার তাঁকে বরখাস্ত, অপসারণ, বাধ্যতামূলক অবসর কিংবা পদাবনতি দিতে পারেন।
পরিদর্শকের নিচের পদমর্যাদার সদস্যের ক্ষেত্রে এই ক্ষমতা উপপুলিশ কমিশনার পর্যায়ের অনুমোদিত কর্মকর্তাও প্রয়োগ করতে পারেন। মেয়র সর্বোচ্চ সংশ্লিষ্ট পুলিশ কমিশনারের কাছে অভিযোগ, তথ্য-প্রমাণ বা বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ পাঠাতে পারেন। নিজে চাকরিচ্যুতির নির্দেশ দিতে পারেন না।

সংবিধানের ১৩৫ অনুচ্ছেদেও বলা হয়েছে, কোনো সরকারি কর্মচারীকে তাঁর নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের অধস্তন কোনো কর্তৃপক্ষ বরখাস্ত, অপসারণ বা পদাবনতি দিতে পারবে না। সাধারণভাবে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আত্মপক্ষ সমর্থনের যুক্তিসংগত সুযোগও দিতে হবে।
পুলিশ কর্মকর্তাদের বিশেষ শৃঙ্খলা অধ্যাদেশে অভিযোগ গঠন, সাত থেকে দশ দিনের মধ্যে কারণ দর্শানো, ব্যক্তিগত শুনানি, প্রস্তাবিত শাস্তির বিরুদ্ধে পুনরায় জবাব এবং আপিলের সুযোগ রাখা হয়েছে। ফলে তাৎক্ষণিক মৌখিক হুমকিতে কারও চাকরি চলে যাওয়ার আইনগত সুযোগ নেই।
স্থায়ী বা অস্থায়ী অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং ফুটপাত রক্ষণাবেক্ষণ সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব হলেও, ফুটপাতে গাড়ি রাখা ও যানবাহনের মাধ্যমে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি ঠেকানো পুলিশের দায়িত্বের অংশ।
সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ৪৭ ধারায় নির্ধারিত এলাকার বাইরে গাড়ি পার্কিং নিষিদ্ধ। ৯০ ধারায় এর শাস্তি সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা এবং চালকের একটি দোষসূচক পয়েন্ট কর্তন। কিন্তু কান ধরে ওঠবস করানোর কোনো বিধান আইনে নেই। অপরাধ হয়ে থাকলে ব্যবস্থা নিতে হবে নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়ায়।
এ ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারা এবং পুলিশ আইনের ৩৪ক ধারার প্রয়োগ নিয়েও ভুল ধারণা রয়েছে। ৫৪ ধারা নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আমলযোগ্য অপরাধে বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তারের ক্ষমতা দেয়। তবে এটি সব ধরনের ট্রাফিক অপরাধে গ্রেপ্তারের অবাধ ক্ষমতা নয়।
মেয়র দায়িত্বে অবহেলার ব্যাখ্যা চাইতে, পুলিশি সহায়তা নিতে কিংবা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানাতে পারেন। কিন্তু জনসমক্ষে অপমান এবং চাকরিচ্যুতির হুমকি বাঞ্ছনীয় নয়।
নবোদয়/ এআরজে/ জেডআরসি/ ০৮ অক্টোবর ২০২৬