Loading...

চাহিদা বেশি কৃষি ও পরিবহন খাতে
দাম কতটা বেড়েছে, তার একটি উদাহরণ যুক্তরাষ্ট্র। আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার দেশটিতে প্রতি গ্যালন বা ৩ দশমিক ৭৯ লিটার ডিজেলের গড় দাম ছিল ৬ দশমিক ৫০ ডলার।


বিশ্ববাজারে তেল ও বিশেষ করে ডিজেলের দাম দ্রুত বাড়ছে। সংকট সামাল দিতে জরুরি মজুত থেকে ১০ কোটি ব্যারেল তেল ও ডিজেল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিল্পোন্নত সাত দেশের জোট জি-৭। চার মাস ধরে সমন্বিতভাবে এই মজুত বাজারে ছাড়া হবে। প্রথম ২০ দিনের মধ্যেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ডিজেল সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে।
দাম কতটা বেড়েছে, তার একটি উদাহরণ যুক্তরাষ্ট্র। আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার দেশটিতে প্রতি গ্যালন বা ৩ দশমিক ৭৯ লিটার ডিজেলের গড় দাম ছিল ৬ দশমিক ৫০ ডলার। এক মাস আগে তা ছিল ৫ দশমিক ৬১ ডলার। একই সময়ে অপরিশোধিত তেলের দামও বেড়েছে, জি-৭-এর ঘোষণার পর ব্রেন্টের দাম সাময়িকভাবে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের নিচে নামলেও পরে আবার প্রায় ১০২ ডলারে ওঠে।
বর্তমান সংকটের প্রথম কারণ মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাতের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে জ্বালানি রপ্তানি ব্যাহত হয়েছে। অপরিশোধিত তেলের প্রবাহ কিছুটা বাড়লেও পরিশোধিত জ্বালানি, বিশেষ করে ডিজেলের সরবরাহ এখনো স্বাভাবিক হয়নি। ইউরোপ সৌদি আরব ও কুয়েত থেকে বড় পরিমাণ ডিজেল আমদানি করত; সেই সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে চাপ বেড়েছে।
দ্বিতীয় কারণ রাশিয়ার রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাওয়া। ইউক্রেনের ধারাবাহিক হামলায় রাশিয়ার কয়েকটি তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশটির ডিজেল উৎপাদন ও রপ্তানি কমেছে। রাশিয়া বিশ্বের অন্যতম বড় ডিজেল রপ্তানিকারক হওয়ায় এই ঘাটতি আন্তর্জাতিক বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলছে।

তৃতীয় কারণ চীনের ডিজেল রপ্তানি বন্ধ। মধ্যপ্রাচ্য ও রাশিয়ার সরবরাহ সংকটের সময়ে চীনও আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেল না দেওয়ায় বিকল্প উৎস আরও সংকুচিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার তেল শিল্প ও বাজার বিভাগের সাবেক প্রধান নিল অ্যাটকিনসনের মতে, তিনটি বড় উৎস থেকে সরবরাহ কমে যাওয়াই বর্তমান ডিজেল সংকটের প্রধান ভিত্তি।
সরবরাহ কমলেও চাহিদা একই হারে কমেনি। কৃষিপণ্য কাটার মৌসুমে ট্রাক, কৃষিযন্ত্র ও পণ্য পরিবহনে ডিজেলের ব্যবহার বাড়ে। একই সঙ্গে শিল্প, জাহাজ ও ভারী পরিবহন খাতও ডিজেলের ওপর নির্ভরশীল। অর্থাৎ বাজারে পণ্য কম, কিন্তু ক্রেতার প্রয়োজন বেশি—দাম বাড়ার পুরোনো সমীকরণটাই এখন নির্মমভাবে কাজ করছে।
এর আগে মার্চে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার সদস্যরা ৪০ কোটি ব্যারেল জরুরি মজুত ছাড়ার অঙ্গীকার করেছিল। এর মধ্যে প্রায় ৩২ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেল বাজারে ছাড়া হয়েছে। এখন বাকি ১০ কোটি ব্যারেল দ্রুত সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জরুরি মজুত সাময়িকভাবে দাম কমাতে পারে; মধ্যপ্রাচ্য, রাশিয়া ও পরিশোধনাগারের সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে মূল সংকট কাটবে না।
দাম দীর্ঘদিন চড়া থাকলে পরিবহন ও কৃষি উৎপাদনের ব্যয় বাড়বে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত খাদ্যসহ নিত্যপণ্যের দামে পড়তে পারে। বাংলাদেশসহ জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য এতে আমদানি ব্যয়, ভর্তুকি এবং বৈদেশিক মুদ্রার ওপর নতুন চাপ তৈরির ঝুঁকি রয়েছে।
নবোদয়/ এআরজে/ জেডআরসি/ ০৪ অক্টোবর ২০২৬