Loading...

যানজট, হর্ন আর বিশৃঙ্খলামুক্ত এমন ঢাকাই সবার কাম্য
হয়রানি বন্ধ এবং নিরাপদ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচলের অনুমতি দেওয়ার দাবিতে ধর্মঘট ডেকেছিলেন রাজধানীর চালকেরা। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী তাঁরা জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন।


চেনা ঢাকা যেন হঠাৎ করেই অচেনা হয়ে উঠেছিল। সড়কে যানবাহনের দীর্ঘ সারি নেই, মোড়ে মোড়ে আটকে থাকা গাড়ি নেই, নেই যত্রতত্র থামা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার জটলা। ব্যস্ত রাজধানীর রাজপথে নেমেছিল বিরল নীরবতা। যানবাহনের চাপ কম থাকায় অনেক সড়ক ছিল প্রায় ফাঁকা। নগরবাসী এক দিনের জন্য হলেও দেখতে পেয়েছেন যানজটের দমবন্ধ করা চেহারার বাইরে অন্য এক ঢাকাকে।
হয়রানি বন্ধ এবং নিরাপদ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচলের অনুমতি দেওয়ার দাবিতে ধর্মঘট ডেকেছিলেন রাজধানীর চালকেরা। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী তাঁরা জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। পুলিশের বিরুদ্ধে হয়রানি, অটোরিকশা আটক ও অবৈধভাবে ডাম্পিংয়ের অভিযোগ তুলে চালকেরা তাঁদের জীবিকা রক্ষার দাবি জানান।
ধর্মঘটের কারণে রাজধানীর অধিকাংশ এলাকায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার উপস্থিতি কমে যায়। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত গাড়িসহ অন্য যানবাহনের সংখ্যাও ছিল তুলনামূলক কম। ফলে প্রতিদিন যে সড়কগুলো যানজটে স্থবির হয়ে থাকে, সেখানে দেখা যায় অনেকটাই স্বাভাবিক গতির চলাচল। ব্যস্ত মোড়গুলোতেও ছিল না গাড়ির জট কিংবা সামনে এগিয়ে যাওয়ার অসুস্থ প্রতিযোগিতা।
ঢাকার সড়ক সাধারণত হর্ন, ধোঁয়া, যানজট এবং বিশৃঙ্খলার সঙ্গে যেন স্থায়ীভাবে জড়িয়ে গেছে। ফুটপাত দখল, যেখানে-সেখানে যাত্রী ওঠানো-নামানো, উল্টো পথে যান চলাচল এবং দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার কারণে রাজধানীর অল্প দূরত্ব পাড়ি দিতেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা লেগে যায়। কিন্তু ধর্মঘটের দিনে যানবাহনের চাপ কমে যাওয়ার পর স্পষ্ট হয়েছে, ঢাকার সড়ক আসলে কতটা প্রশস্ত এবং কতটা স্বস্তিদায়ক হতে পারে।

ফাঁকা রাজপথে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে প্যাডেলচালিত রিকশা। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার দাপট না থাকায় তারা তুলনামূলক বাধাহীনভাবে চলাচল করেছে। অনেক এলাকায় রাস্তার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত পরিষ্কারভাবে দেখা গেছে। প্রতিদিন যানবাহনের ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া সড়ক বিভাজক, ফুটপাত ও খোলা জায়গাগুলোও যেন আবার দৃশ্যমান হয়ে উঠেছিল।
এই দৃশ্য অবশ্য ধর্মঘটকে নগর সমস্যার সমাধান হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে না। লাখো মানুষের জীবিকা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে যুক্ত। রাজধানীর বহু এলাকায় এই যানই সহজলভ্য পরিবহনের অন্যতম মাধ্যম। ফলে হঠাৎ নিষেধাজ্ঞা কিংবা নির্বিচারে অটোরিকশা আটক কোনো কার্যকর সমাধান হতে পারে না। প্রয়োজন নিবন্ধন, নির্ধারিত রুট, চালকদের প্রশিক্ষণ, গতিসীমা, মানসম্মত ব্যাটারি ও চার্জিং ব্যবস্থা এবং কঠোর ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ।
একই সঙ্গে ধর্মঘটের দিনের ফাঁকা ঢাকা নগর কর্তৃপক্ষকে বড় একটি বার্তা দিয়েছে। সড়কে যানবাহনের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা গেলে, অবৈধ পার্কিং বন্ধ হলে এবং গণপরিবহনকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনা গেলে রাজধানীকে অনেকটাই স্বস্তিতে রাখা সম্ভব।
ঢাকা সচল থাকবে, মানুষ জীবিকা নির্বাহ করবেন, প্রয়োজনীয় যানবাহনও চলবে—কিন্তু সড়ককে কেউ ব্যক্তিগত সম্পত্তির মতো ব্যবহার করতে পারবে না। যানজট ও বিশৃঙ্খলার বদলে নিয়ন্ত্রিত চলাচল, পরিমিত হর্ন এবং খোলা রাজপথ—এমন ফাঁকা ও শৃঙ্খলিত ঢাকাই তো সবার কাম্য।
নবোদয়/ এআরজে/ জেডআরসি/ ০৬ অক্টোবর ২০২৬