Loading...

ভেকু ও পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর
বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মিরপুর-১০ গোলচত্বরসংলগ্ন ফুটপাত ও সড়ক থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান শুরু করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি পুলিশ সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।


রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে হকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের তিনটি ময়লার গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। ভাঙচুর করা হয় উচ্ছেদ অভিযানে ব্যবহৃত একটি ভেকু এবং পুলিশের একটি গাড়ি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করেছে।
বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মিরপুর-১০ গোলচত্বরসংলগ্ন ফুটপাত ও সড়ক থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান শুরু করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি পুলিশ সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উচ্ছেদ অভিযান শুরুর পর হকার ও ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা বাধা দেন। এ নিয়ে অভিযান পরিচালনাকারীদের সঙ্গে তাঁদের বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
হকারদের একটি অংশ লাঠিসোঁটা নিয়ে সড়কে নেমে আসে। তারা সিটি করপোরেশন ও পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে শুরু করে। পরে সিটি করপোরেশনের তিনটি ময়লার গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। একই সময় উচ্ছেদ অভিযানে ব্যবহৃত একটি ভেকু এবং পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।
আগুনের সূত্রপাত নিয়ে অবশ্য দুই ধরনের তথ্য পাওয়া গেছে। কয়েকটি প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উচ্ছেদ অভিযান চলার সময় বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে প্রথমে আগুন লাগে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে হকার ও ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা সিটি করপোরেশনের গাড়িতে আগুন দেন। অন্যদিকে ঘটনাস্থলের কয়েকটি সূত্রের দাবি, বিক্ষুব্ধ ব্যক্তিরাই সরাসরি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন। পুলিশ বা ফায়ার সার্ভিস আগুনের প্রকৃত কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।
সংঘর্ষের সময় বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কয়েক দফা কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে। একপর্যায়ে হকারদের সংখ্যা বেড়ে গেলে পুলিশ কিছুটা পিছু হটে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে মিরপুর-১০ গোলচত্বর ও আশপাশের এলাকা ঘিরে রাখা হয়।

ঘটনার পরপরই ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ির সংখ্যা নিয়েও বিভ্রান্তি তৈরি হয়। প্রথম দিকের তথ্যে সিটি করপোরেশনের দুটি গাড়ি ও পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। তবে পরবর্তী তথ্য অনুযায়ী, সিটি করপোরেশনের তিনটি ময়লার গাড়ি পোড়ানো হয়েছে। পুলিশের গাড়িটি ভাঙচুর করা হলেও সেটিতে আগুন দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। একই সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন ছিলেন।
মিরপুর মডেল থানার ডিউটি অফিসার মো. শহিদুল ইসলাম সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে আটক করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
সংঘর্ষে কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও সংবাদকর্মী আহত হয়েছেন বলে ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে। তবে আহত ব্যক্তিদের সংখ্যা ও পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। এ ঘটনায় কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
সংঘর্ষের পর মিরপুর-১০ থেকে মিরপুর-১৪ পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে আশপাশের সড়কে তীব্র যানজট তৈরি হয়। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা। সড়কে লাঠি হাতে হকারদের অবস্থান এবং পুলিশের সতর্ক উপস্থিতির কারণে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
দুপুর পর্যন্ত মিরপুর আইডিয়াল কলেজসংলগ্ন এলাকায় হকারদের অবস্থান করতে দেখা যায়। অন্যদিকে পুলিশ মিরপুর-১০ গোলচত্বরের চারপাশে অবস্থান নেয়। নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে পুরো এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়।
এর আগে মিরপুর-১০ ফলপট্টিতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন জানিয়েছিল, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে আগাম নোটিশ ছাড়াই অভিযান চালানো হবে। সেই ধারাবাহিকতায় বুধবারের অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছিল। ঘটনার প্রকৃত কারণ, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং হামলা-অগ্নিসংযোগে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নবোদয়/ এআরজে/ জেডআরসি/ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬