Loading...

উমামা ফাতেমার ফেসবুক স্ট্যাটাস
জুলাই আন্দোলনের সময় সমন্বয়ক কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন উমামা। তাঁর অভিযোগ, ওই সময় বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনকে বাদ দিয়ে ইসলামী ছাত্রশিবির ও ছাত্রশক্তির একটি অংশের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সমন্বয়ক কমিটিতে রাখা হয়েছিল।


রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আম্মার ‘উড়ে এসে নেতা হয়েছেন’ বলে মন্তব্য করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র উমামা ফাতেমা। তাঁর অভিযোগ, জুলাই আন্দোলনের পর আম্মারসহ অনেকেই প্রভাবশালী হয়ে উঠেছেন, যাঁদের আগের আন্দোলন-সংগ্রামের সঙ্গে ন্যূনতম সম্পর্ক ছিল না।
বুধবার দিবাগত রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব মন্তব্য করেন উমামা। পোস্টে তিনি লেখেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের সঙ্গে সম্পর্ক না থাকা অনেক মানুষ নেতা হয়েছেন। সালাউদ্দিন আম্মার তাঁদের অন্যতম।
জুলাই আন্দোলনের সময় সমন্বয়ক কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন উমামা। তাঁর অভিযোগ, ওই সময় বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনকে বাদ দিয়ে ইসলামী ছাত্রশিবির ও ছাত্রশক্তির একটি অংশের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সমন্বয়ক কমিটিতে রাখা হয়েছিল। এর ফলেই ৫ আগস্টের পর অনেক ‘যদু-মধু-কদু’ এসে সর্বেসর্বা হয়ে উঠেছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জুলাইয়ের স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনকে নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার অভিযোগও করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক এই মুখপাত্র। বিষয়টি নিয়ে পোস্টে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি সংশ্লিষ্টদের কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনমত তৈরির প্রক্রিয়া নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন উমামা। তাঁর দাবি, বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী জুলাই আন্দোলনের নাম ব্যবহার করে ফেসবুকে পরিকল্পিতভাবে জনসম্মতি তৈরি করছে। একইভাবে তরুণদের সামনে কিছু ব্যক্তিকে কৃত্রিমভাবে ‘হিরো’ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।
মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সহিংসতায় ফেসবুকের ভূমিকার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার বাংলাদেশকেও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।
পোস্টের শেষ দিকে জামায়াতে ইসলামী ও আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের তুলনা করেন উমামা। তাঁর ভাষ্য, দল দুটির মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। জামায়াত নিজেদের অতীতের দায় আড়াল করতে দেশকে যেকোনো পর্যায়ে নিয়ে যেতে প্রস্তুত বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
উমামার এসব বক্তব্য ও অভিযোগের বিষয়ে সালাউদ্দিন আম্মার কিংবা সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর কোনো প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
নবোদয়/ এআরজে/ জেডআরসি/ ০১ অক্টোবর ২০২৬