Loading...

৭ অক্টোবর বাংলাদেশে পাঠানোর পরিকল্পনা
ভারতের বার্তা সংস্থা প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়ার (পিটিআই) বরাত দিয়ে সোমবার এ খবর প্রকাশ করেছে দেশটির সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আটক ব্যক্তিদের ভারতীয় বিমানবাহিনীর একটি উড়োজাহাজে করে জম্মু ও কাশ্মীর থেকে পশ্চিমবঙ্গের বাগডোগরা বিমানবন্দরে নেওয়া হয়েছে।


ভারতনিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীরে অবৈধভাবে বসবাসের অভিযোগে অন্তত ১৫০ জনকে আটক করেছে ভারতীয় পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের বাংলাদেশি নাগরিক দাবি করে তাঁদের পশ্চিমবঙ্গে নেওয়া হয়েছে। আগামী ৭ অক্টোবর সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় পুলিশ সূত্র।
ভারতের বার্তা সংস্থা প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়ার (পিটিআই) বরাত দিয়ে সোমবার এ খবর প্রকাশ করেছে দেশটির সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আটক ব্যক্তিদের ভারতীয় বিমানবাহিনীর একটি উড়োজাহাজে করে জম্মু ও কাশ্মীর থেকে পশ্চিমবঙ্গের বাগডোগরা বিমানবন্দরে নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সূত্রের দাবি, জম্মু ও কাশ্মীরে অবৈধ অভিবাসী শনাক্ত করতে সাম্প্রতিক সময়ে একটি জরিপ পরিচালনা করা হয়। ওই অভিযানে প্রায় ৫০০ জনকে আটক করে শ্রীনগর শহরের উপকণ্ঠে পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে। তাঁদের মধ্য থেকে প্রাথমিকভাবে ১৫০ জনকে পশ্চিমবঙ্গে স্থানান্তর করা হলো।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হবে। পরে সীমান্ত দিয়ে তাঁদের বাংলাদেশে পাঠানো হবে। তবে আটক ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব কীভাবে যাচাই করা হয়েছে, তাঁদের কাছে বাংলাদেশি পরিচয়পত্র পাওয়া গেছে কি না কিংবা বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে প্রত্যাবাসনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ হয়েছে কি না—প্রকাশিত প্রতিবেদনে তা স্পষ্ট করা হয়নি।

ভারতীয় কর্মকর্তাদের ভাষ্য, আটক ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে কাশ্মীর উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করছিলেন। তাঁদের অধিকাংশ ভাঙারি সংগ্রহসহ বিভিন্ন ধরনের শ্রমনির্ভর পেশায় যুক্ত ছিলেন। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাও রয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। তাঁদেরও পর্যায়ক্রমে বহিষ্কারের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গঠিত জনসংখ্যা পরিবর্তনসংক্রান্ত একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটির জম্মু ও কাশ্মীর সফরের প্রায় দুই মাস পর এই অভিযান চালানো হলো। চলতি বছরের মে মাসে গঠিত কমিটিকে অঞ্চলটিতে অনিয়ন্ত্রিত অভিবাসন ও ধর্মীয় জনসংখ্যার পরিবর্তনের বিষয় পর্যালোচনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
কমিটির কাছে উপস্থাপিত সরকারি হিসাবে জম্মু ও কাশ্মীরে ৭ হাজার ৬৫৬ জন রোহিঙ্গা এবং ৫০৪ জন বাংলাদেশি অবস্থান করছেন বলে দাবি করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে মোট ১১৭টি মামলা রয়েছে বলেও কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তবে এসব সংখ্যার স্বাধীন যাচাই কিংবা আটক ব্যক্তিদের বক্তব্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
উচ্চপর্যায়ের কমিটিকে আগামী এক বছরের মধ্যে জম্মু ও কাশ্মীরে কথিত অনিয়ন্ত্রিত অভিবাসন ও জনসংখ্যাগত পরিবর্তন নিয়ে সুপারিশ জমা দিতে বলা হয়েছে। এর মধ্যেই আটক ব্যক্তিদের প্রথম দলকে সীমান্তের দিকে স্থানান্তর শুরু করল ভারত। এ বিষয়ে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য ভারতীয় সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
নবোদয়/ এআরজে/ জেডআরসি/ ০৬ অক্টোবর ২০২৬