Loading...

কারিগরি আলোচনার পর বিষয়টি যাবে মন্ত্রী পর্যায়ে
শুষ্ক মৌসুমে পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে ভারতের সঙ্গে শুধু পুরোনো গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর পরিবর্তে নিশ্চয়তার বিধানসহ নতুন চুক্তি চায় বাংলাদেশ। আগামী ১২ ডিসেম্বর বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নতুন সমঝোতা সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দুই দেশ যৌথ নদী কমিশনের মাধ্যমে কাজ করছে।


শুষ্ক মৌসুমে পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে ভারতের সঙ্গে শুধু পুরোনো গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর পরিবর্তে নিশ্চয়তার বিধানসহ নতুন চুক্তি চায় বাংলাদেশ। আগামী ১২ ডিসেম্বর বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নতুন সমঝোতা সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দুই দেশ যৌথ নদী কমিশনের মাধ্যমে কাজ করছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ঢাকায় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজে ‘পানির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন ভাবনা: তরুণ নেতৃত্ব, ন্যায়বিচার ও সহযোগিতা’ শীর্ষক সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ প্রত্যাশার কথা জানান। একই সঙ্গে ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে পদ্মা ব্যারাজের কাজ দৃশ্যমান এবং ওই বছর তিস্তা প্রকল্পের মূল কাজ শুরুর লক্ষ্য তুলে ধরেন তিনি।
গঙ্গার পানিবণ্টন নিয়ে সাম্প্রতিক আলোচনায় বাংলাদেশের মূল দাবি হয়ে উঠেছে ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ বা পানিপ্রাপ্তির নিশ্চয়তার বিধান। গত ২৪ সেপ্টেম্বর ঢাকায় ‘কল্লোলিনী: এ রিভার ডায়ালগ ২০২৬’ অনুষ্ঠানেও এ্যানি বলেছিলেন, ভাটির দেশ হিসেবে শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে। শুধু নবায়নের বদলে নতুন চুক্তির বিষয়ে তখনই সরকারের অবস্থান জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার এ্যানি জানান, যৌথ নদী কমিশনের কারিগরি দলের চলমান কাজ শেষে অবশিষ্ট বিষয় মন্ত্রী পর্যায়ে যাবে। এখন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত বৈঠকের ভিত্তিতে সরকার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই চুক্তি সম্পন্ন করার বিষয়ে আশাবাদী। দীর্ঘমেয়াদি নতুন ব্যবস্থায় বাংলাদেশের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখার ওপর জোর দেন তিনি।
১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ও ভারত ৩০ বছরের জন্য গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি সই করে। এর আওতায় প্রতিবছর জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত ফারাক্কায় পাওয়া প্রবাহ দুই দেশের মধ্যে বণ্টন করা হয়। নতুন আলোচনায় বাংলাদেশের অগ্রাধিকার হচ্ছে, পানির প্রবাহ কমে গেলেও দেশের প্রয়োজনীয় হিস্যা পাওয়ার সুরক্ষা জোরদার করা।

১৯৭৭ সালের পাঁচ বছর মেয়াদি চুক্তিতে প্রবাহ কমে গেলে সংশ্লিষ্ট দশ দিনের জন্য নির্ধারিত বাংলাদেশের হিস্যার অন্তত ৮০ শতাংশ ছাড়ার বিধান ছিল। বর্তমান চুক্তিতেও ১১ মার্চ থেকে ১০ মে পর্যন্ত পালাক্রমে তিনটি ১০ দিনের মেয়াদে দুই দেশের প্রত্যেকের ৩৫ হাজার কিউসেক পাওয়ার বিধান রয়েছে। তাই নিশ্চয়তার আলোচনা মূলত পানিসংকটে বাংলাদেশের হিস্যা কীভাবে সুরক্ষিত হবে, সেই প্রশ্নকে সামনে আনছে।
মন্ত্রী বলেন, ১৯৭৭ সালের চুক্তির অনুরূপ গ্যারান্টি ক্লজ ফিরিয়ে আনাই বাংলাদেশের প্রধান অগ্রাধিকার। দীর্ঘমেয়াদি নতুন ব্যবস্থায় জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করতে চায় সরকার। ভাটির দেশের শুষ্ক মৌসুমে পানিসংকট এবং বর্ষায় অতিরিক্ত প্রবাহের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তথ্য বিনিময়, বৈজ্ঞানিক তথ্যপ্রমাণ ও সহযোগিতার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
পদ্মা ব্যারাজ প্রসঙ্গে এ্যানি জানান, কাজ দৃশ্যমান করার জন্য প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদিত হয়েছে। সরকারের প্রত্যাশা, আগামী জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি বা মার্চের কোনো এক সময়ে মাঠপর্যায়ের কাজ দেখা যাবে। প্রকল্পের কাজ দৃশ্যমান করার লক্ষ্যই তুলে ধরেছেন মন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, পদ্মা ব্যারাজের সমীক্ষা সম্পন্ন করতে ২০০৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত সময় লেগেছিল। এরপর প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়নি। দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক মাসের মধ্যে সরকার বিষয়টি চূড়ান্ত করে কাজ হাতে নিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনাকে দেশের বড় অংশের মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হিসেবে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।
তিস্তা মহাপরিকল্পনার ক্ষেত্রে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের ভিত্তিতেই মূল প্রকল্প শুরু করার কথা জানিয়েছেন এ্যানি। তিনি বলেন, বুয়েটের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দেশি ও বিদেশি বিশেষজ্ঞদের কারিগরি সহায়তাও নেওয়া হচ্ছে। ২০২৭ সালের মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষ করে ওই বছর মূল কাজ শুরু করার দিকে সরকারের নজর রয়েছে।
বাইরের চাপ বা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে কি না, এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, নদীপাড়ের মানুষের স্বার্থই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় চাপ। সরকার নিজ উদ্যোগে প্রকল্পগুলো এগিয়ে নেবে। তবে তিস্তার মতো বড় প্রকল্পের সমীক্ষা রাতারাতি কিংবা দু-এক মাসে শেষ করা সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি।
নবোদয়/ এসএন/ জেডআরসি/ ০৮ অক্টোবর ২০২৬