Loading...

সালমান মুক্তাদির ইস্যু
হামলার শিকার একজন নাগরিক সরকারের সমালোচনা করেছেন। তার জবাবে জননিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা মন্ত্রী বলছেন, বিচার করবে জনগণ। সালমান মুক্তাদিরের অভিযোগ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সর্বশেষ বক্তব্যের তাৎপর্য এখানেই।


হামলার শিকার একজন নাগরিক সরকারের সমালোচনা করেছেন। তার জবাবে জননিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা মন্ত্রী বলছেন, বিচার করবে জনগণ। সালমান মুক্তাদিরের অভিযোগ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সর্বশেষ বক্তব্যের তাৎপর্য এখানেই। রাজনৈতিক মূল্যায়নের কথা বলা হচ্ছে, নাকি সমালোচককে সতর্ক করা হচ্ছে—বক্তব্যে সেই সীমারেখা স্পষ্ট নয়।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকারকে ঢালাও দোষারোপ এবং বিএনপিকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে চাঁদাবাজ বললে ‘বিচার করবে জনগণ’। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সালমানের স্টুডিও থাকা নিউগিনি প্রপার্টিজে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের পর তিনি দলীয় পরিচয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ করেছিলেন। মন্ত্রী পাল্টা বলেন, সালমান পরে জানিয়েছেন, তার কাছে সরাসরি কেউ চাঁদা চাননি। হামলায় জড়িত সবাইকে তদন্তের আওতায় এনে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি।
বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রকাশিত কয়েকটি বক্তব্য পাশাপাশি রাখলে দেখা যায়, আন্দোলন ও সমালোচনার জবাবে মন্ত্রী কখনো সরকারের শক্ত অবস্থানের কথা বলেছেন, কখনো প্রশ্নকারীর বক্তব্যকেই অগ্রহণযোগ্য বলেছেন।
১৬ জুলাই শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিসহ শিক্ষার্থী আন্দোলনের পেছনে কারা রয়েছে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘পেছনে যে-ই থাকুক, সামনে তো আমরা আছি।’ তার ব্যাখ্যা ছিল, কিছু মহল পরিচয় গোপন করে বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারকে বিব্রত করার চেষ্টা করে। এখানে নির্দিষ্ট অপরাধ বা ব্যবস্থার উল্লেখের বদলে সরকারের উপস্থিতি ও শক্তির কথা এসেছে। ফলে আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে পরোক্ষ হুঁশিয়ারি হিসেবে কথাটি ভাবার অবকাশ রয়েছে।

২৭ আগস্ট সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তুলে ধরে জানতে চান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সফল না ব্যর্থ। জবাবে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সফল না ব্যর্থ—এটা শাহবাগ ও পল্টনে বলা যায়। সংসদে এ ধরনের প্রশ্ন চলে না।’ তিনি নির্দিষ্ট অপরাধে ব্যবস্থা না নেওয়ার উদাহরণও চান। বক্তব্যে শাস্তির হুমকি নেই, তবে সংসদে মন্ত্রীর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্নকেই অগ্রহণযোগ্য বলার মধ্যে জবাবদিহির প্রতি অসহিষ্ণুতা ফুটে ওঠে।
২৭ সেপ্টেম্বর এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্যকে তিনি ‘অসংলগ্ন এবং ভারসাম্যহীন’ আখ্যা দেন। নয় দফা মানলে আর সহিংসতা হবে না—পাটওয়ারীর বক্তব্যের এমন ব্যাখ্যা দিয়ে মন্ত্রী দাবি করেন, তারা নিজেরাই কারা এসব ঘটনায় জড়িত, তা প্রমাণ করছেন। রাজনৈতিক বক্তব্যের ভিত্তিতে সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত দেওয়া এবং তদন্তে অপরাধ প্রমাণ করা পৃথক বিষয়। একই দিন সালমানের সমালোচনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী অবশ্য বলেছিলেন, ‘গণতন্ত্র ও বাকস্বাধীনতা রয়েছে।’
জনগণের বিচার বলতে ভোট, জনমত বা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ বোঝানো হলে তা স্পষ্ট করা দরকার। হামলার শিকার নাগরিকের অভিযোগের জবাবে এই অস্পষ্ট ভাষা রাজনৈতিক চাপ হিসেবে অনুভূত হওয়ার সুযোগ তৈরি করে।
সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদ নাগরিকের আইন অনুযায়ী আচরণ পাওয়ার অধিকার এবং ৩৯ অনুচ্ছেদ নির্ধারিত সীমা সাপেক্ষে বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করে। অভিযোগের সত্যতা তদন্তে নির্ধারিত হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যেও সমালোচকের নিরাপত্তা ও আইনি প্রতিকারের নিশ্চয়তা স্পষ্ট থাকা প্রয়োজন—বিশেষত সমালোচক যখন ইতিমধ্যে হামলার শিকার।
নবোদয়/ এসএন/ জেডআরসি/ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬