Loading...

শত শত স্কুলে শিক্ষার্থীদের অবরোধ
মঙ্গলবার সকাল থেকে মার্সেই, নাঁতেস ও লিওঁসহ বিভিন্ন শহরে শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল শুরু হয়। রাজধানী প্যারিসে দিনের সবচেয়ে বড় সমাবেশের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। বিক্ষোভকারীদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে শিক্ষা খাতের সংকট এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের নিষ্ক্রিয়তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেখা যায়।


শিক্ষকসংকট, জরাজীর্ণ শ্রেণিকক্ষ এবং শিক্ষাব্যবস্থায় পর্যাপ্ত অর্থায়নের দাবিতে ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকেরা। মঙ্গলবার দেশটির বিভিন্ন শহরে মিছিলের পাশাপাশি শত শত উচ্চবিদ্যালয়ের প্রবেশপথ অবরোধ করা হয়। গত দুই সপ্তাহ ধরে চলা আন্দোলনে এটিই সবচেয়ে বড় কর্মসূচি বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
মঙ্গলবার সকাল থেকে মার্সেই, নাঁতেস ও লিওঁসহ বিভিন্ন শহরে শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল শুরু হয়। রাজধানী প্যারিসে দিনের সবচেয়ে বড় সমাবেশের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। বিক্ষোভকারীদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে শিক্ষা খাতের সংকট এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের নিষ্ক্রিয়তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেখা যায়।
ফ্রান্সের হাইস্কুল স্টুডেন্টস ইউনিয়নের দাবি, মঙ্গলবার দেশটির প্রায় ১ হাজার ৮০০ উচ্চবিদ্যালয় অবরোধ করা হয়েছে অথবা বন্ধ রাখা হয়েছে। কিছু স্থানীয় শিক্ষা কর্তৃপক্ষ অনলাইনে পাঠদান চালুর চেষ্টা করেছে।
দুই সপ্তাহ আগে প্যারিসের অপেক্ষাকৃত অনুন্নত শহরতলির কয়েকটি বিদ্যালয় থেকে আন্দোলনের সূচনা হয়। পরে তা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অনেক বিদ্যালয়ে প্রয়োজনের তুলনায় শিক্ষক কম, অনুপস্থিত শিক্ষকদের সময়মতো বদলি দেওয়া হয় না এবং পুরোনো ভবন ও শ্রেণিকক্ষের অবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
শিক্ষার্থীরা সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দীর্ঘ সময় বিদ্যালয়ে থাকার বিষয়টি পর্যালোচনা, দুপুরের খাবারের জন্য বেশি সময় এবং জরাজীর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। শিক্ষা খাতে সম্ভাব্য ব্যয় সংকোচনের পরিকল্পনা থেকেও সরকারকে সরে আসার আহ্বান তাঁদের।

আন্দোলনের শুরু থেকেই পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়েছে। পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত অস্ত্র প্রয়োগ করেছে। অন্যদিকে বিক্ষোভকারীদের একাংশের বিরুদ্ধে পুলিশের দিকে বিভিন্ন বস্তু নিক্ষেপ, অগ্নিসংযোগ ও সরকারি সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগ উঠেছে। সরকার বলছে, আন্দোলনের কিছু অংশ শহুরে সহিংসতায় রূপ নিয়েছে।
ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আন্দোলন শুরুর পর থেকে ৬ হাজার ১০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাঁদের অধিকাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক। সরকারের হিসাবে সংঘর্ষে অন্তত ৭১৫ পুলিশ সদস্য ও ২১৫ কিশোর আহত হয়েছেন। ১ হাজার ৮০০ জনের বেশি বিক্ষোভকারীর বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
সোমবার উত্তর ফ্রান্সের লেন্স শহরে বিক্ষোভের সময় ১৫ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়ে একটি হাত হারিয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম লা ভয়েক্স দ্যু নর্দ জানিয়েছে, পুলিশের একটি দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ গ্রেনেড হাতে নেওয়ার পর সেটি বিস্ফোরিত হলে ওই শিক্ষার্থী আহত হয়। তবে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা ফ্রাঁসোয়া-জাভিয়ের লচ ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করেননি। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকুরনু শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবিগুলো পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের নির্দেশ দিয়েছেন। অনুপস্থিত শিক্ষকের দ্রুত বিকল্প নিয়োগ, দীর্ঘ স্কুল সময় পুনর্বিবেচনা এবং পুরোনো ভবন সংস্কারের বিষয়ে অক্টোবরের শেষ নাগাদ প্রাথমিক প্রস্তাব দিতে বলা হয়েছে।
তবে সরকারের জন্য এসব দাবি বাস্তবায়ন সহজ হবে না। বড় বাজেট ঘাটতি, বাড়তে থাকা সরকারি ঋণ এবং ব্যয় কমানোর চাপের মধ্যেই শিক্ষা খাতে বাড়তি অর্থ বরাদ্দের দাবি উঠেছে। ফলে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এখন প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সরকারের অর্থনৈতিক নীতি ও জনসেবা ব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধেও বড় রাজনৈতিক চাপ তৈরি করছে।
নবোদয়/ এআরজে/ জেডআরসি/ ০৬ অক্টোবর ২০২৬