Loading...

রেমিট্যান্স নেমেছে ১১ মাসে সর্বনিম্নে
জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে বিদেশে যাওয়ার ছাড়পত্র পেয়েছিলেন ৯৯ হাজার ২৪ জন। তবে চলতি বছরের আগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বরে ছাড়পত্রের সংখ্যা ১১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে।


আগের মাসের তুলনায় কিছুটা বাড়লেও বছরওয়ারি হিসাবে সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। মাসটিতে বিদেশে কাজের জন্য ৭০ হাজার ৩০৪ জন কর্মী ছাড়পত্র পেয়েছেন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৮ হাজার ৭২০ জন বা প্রায় ২৯ শতাংশ কম।
জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে বিদেশে যাওয়ার ছাড়পত্র পেয়েছিলেন ৯৯ হাজার ২৪ জন। তবে চলতি বছরের আগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বরে ছাড়পত্রের সংখ্যা ১১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। আগস্টে ৬২ হাজার ৯২৪ জন কর্মী ছাড়পত্র পেয়েছিলেন। এক মাসের ব্যবধানে সংখ্যাটি বেড়েছে ৭ হাজার ৩৮০ জন।
চলতি বছরের প্রথম নয় মাসের হিসাবেও বৈদেশিক কর্মসংস্থানে বড় পতন দেখা গেছে। জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৫ লাখ ৬৯ হাজার ৯৭৯ জন কর্মী বিদেশে যাওয়ার ছাড়পত্র পেয়েছেন। গত বছরের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ৮ লাখ ৩৮ হাজার ৮৯২। সেই হিসাবে কর্মী পাঠানো কমেছে ২ লাখ ৬৮ হাজার ৯১৩ জন বা প্রায় ৩২ শতাংশ।
সংশ্লিষ্টদের মতে, মালয়েশিয়া, ওমান ও বাহরাইনসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার বন্ধ অথবা সীমিত থাকা এই পতনের অন্যতম কারণ। সংযুক্ত আরব আমিরাতও বাংলাদেশ থেকে স্বল্পদক্ষ কর্মী নেওয়া পুরোপুরি শুরু করেনি। এর সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও নিরাপত্তা অনিশ্চয়তা নতুন চাপ তৈরি করেছে।
প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশি কর্মীদের প্রধান গন্তব্য ছিল সৌদি আরব। দেশটিতে যাওয়ার জন্য ৩২ হাজার ৯১৫ জন কর্মী ছাড়পত্র পেয়েছেন। আগস্টে এই সংখ্যা ছিল ২৯ হাজার ১৩৫। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮ হাজার ৩০৬ জন কর্মী গেছেন সিঙ্গাপুরে। কাতারের জন্য ৬ হাজার ২৮২ জন, মালদ্বীপের জন্য ৫ হাজার ১৫ জন, কুয়েতের জন্য ৪ হাজার ৫৩৮ জন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের জন্য ৪ হাজার ৪৪২ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন।

ইউরোপের কয়েকটি দেশে কর্মী যাওয়ার সংখ্যা বেড়েছে। সেপ্টেম্বরে পর্তুগালের জন্য ১ হাজার ২৪৯ জন কর্মী ছাড়পত্র পেয়েছেন, যা আগস্টে ছিল ৬৯৫। ইতালির ক্ষেত্রে এই সংখ্যা ৮২৮ থেকে বেড়ে ১ হাজার ৯৭ জন হয়েছে।
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব টিপু সুলতান বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চল ও মালয়েশিয়ায় কাজের সুযোগ সংকুচিত হলেও বাংলাদেশ শ্রমবাজারে প্রয়োজনীয় বৈচিত্র্য আনতে পারেনি। ব্রুনাই ও জর্ডানসহ কয়েকটি বাজারে অধিকাংশ বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সির প্রবেশাধিকার না থাকাও কর্মসংস্থান সম্প্রসারণে বাধা তৈরি করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নূর জানিয়েছেন, আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি কর্মক্ষম মানুষের বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্য নিয়েছে সরকার। বন্ধ শ্রমবাজার চালু, নতুন দেশের সঙ্গে সমঝোতা এবং ভাষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে সেপ্টেম্বরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার, যা ১১ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। তবে জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে রেমিট্যান্স বেড়ে ৮ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে—আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি।
নবোদয়/ এআরজে/ জেডআরসি/ ০৫ অক্টোবর ২০২৬