Loading...

ভেরিফিকেশন বিতর্ক
ছাত্রদল নেতা শেখ তানভীর বারী হামীম বলেছেন, সাবেক-বর্তমান ছাত্রলীগ কর্মীদের চাকরি হবে না। এখান থেকেই ঢাকসু নির্বাচনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শামীম একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছেন—যে শিবির নেতা এতদিন ছাত্রলীগের ছত্রছায়ায় ছাত্রলীগ পরিচয়েই টিকে ছিলেন, তারও কি তাহলে চাকরি হবে না?


প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগে এবারই প্রথম চালু হয়েছিল এনএসআই ভেরিফিকেশন পদ্ধতি। অথচ গতকাল প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলাফলে বাদ পড়েছেন সাত শতাধিক উত্তীর্ণ প্রার্থী। ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো এত বিপুল সংখ্যক সুপারিশপ্রাপ্ত প্রাইমারি প্রার্থীকে চূড়ান্ত নিয়োগ থেকে বাদ দেওয়া হলো। সচেতন মহল থেকে প্রশ্ন উঠছে—১৩তম গ্রেডের একটি চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রেও কি এখন রাজনৈতিক অবস্থানই মুখ্য বিবেচ্য বিষয় হয়ে উঠবে?
কথাগুলো নিছক অনুমান থেকে আসছে না, এর পেছনে যথেষ্ট যৌক্তিক কারণ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিএনপি সরকারের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে দলীয় বিবেচনায় সরকারি পদে নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, “পৃথিবীর কোন দেশে দলীয় নিয়োগ হয় না?” এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি কার্যত স্বীকারই করে নিলেন যে বিএনপি প্রকাশ্যেই দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ দিচ্ছে। তাহলে প্রশ্ন দাঁড়ায়—কোনো একটি দল করাই কি যোগ্যতার মাপকাঠি, নাকি দীর্ঘদিন কোনো দলের হয়ে রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হওয়াটাই চাকরি পাওয়ার যোগ্যতা? ঠিক কোনটা আসল মানদণ্ড?
ছাত্রদল নেতা শেখ তানভীর বারী হামীম বলেছেন, সাবেক-বর্তমান ছাত্রলীগ কর্মীদের চাকরি হবে না। এখান থেকেই ঢাকসু নির্বাচনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শামীম একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছেন—যে শিবির নেতা এতদিন ছাত্রলীগের ছত্রছায়ায় ছাত্রলীগ পরিচয়েই টিকে ছিলেন, তারও কি তাহলে চাকরি হবে না?
একইভাবে কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের বিএনপি সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান চাকরিপ্রার্থীদের উদ্দেশে বলেছেন, লিখিত পরীক্ষায় পাস করার পর অ্যাডমিট কার্ড নিয়ে তাঁর কাছে যেতে; চাকরির জন্য যেখানে ফোন করা প্রয়োজন, সেখানে তিনি নিজে ফোন করবেন।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেছেন, দীর্ঘদিন পর দল ক্ষমতায় এসেছে এবং দলের দুর্দিনের নেতাকর্মীদের পর্যায়ক্রমে মূল্যায়ন করা হবে। এরপর তিনি যোগ করেন, “আইন ও নিয়মের মধ্যে থেকে চাকরি, বৈধ ডিলারশিপ ও কাজের সুযোগ দেওয়া হবে।” কীভাবে এটি আইনের কাঠামোর মধ্যে থাকবে, তা অবশ্য বোধগম্য নয়।
এর ঠিক বিপরীত একটি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি বলেছেন, “চাকরি-বাকরি অথবা ব্যবসা-বাণিজ্য যা-ই থাকুক না কেন, সবকিছু হবে যোগ্যতার ভিত্তিতে।”
অনেক নেতা-কর্মী অবশ্য বলছেন, বিগত সরকারই এই পথ দেখিয়ে গেছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো—আগে কেউ অন্যায় করলে সেটা কি বর্তমানের জন্য বৈধতা হয়ে যায়? নাকি তা পরবর্তী ধ্বংসের পথই তৈরি করে? এই প্রশ্নের উত্তর দর্শকদের বিবেচনার জন্যই তোলা রইলো।
প্রাইমারি চাকরিবঞ্চিতদের হাহাকারে গুমোট রূপ নিয়েছে সামাজিক মাধ্যম। অনেক বেকার তরুণ তাদের স্বপ্নের ক্যারিয়ারের জন্য প্রস্তুতি নিতে ভয় পাচ্ছেন, আর অনেকে পরবর্তী প্রজন্মকে দেশ ছাড়তেই উৎসাহিত করছেন। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের দেশের প্রকৃত ভবিষ্যৎ আসলে কী দাঁড়াবে?
শেষ পর্যন্ত আমরা সবাই এই দেশেরই নাগরিক। কারও নামে মামলা না থাকলে, কেউ অপরাধী না হলে, তার মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়া স্পষ্টতই মানবাধিকার লঙ্ঘন। জীবনের ২৫-২৬টি বছর একটি স্বপ্ন লালন করার পর যদি রাজনৈতিক বা উচ্চপর্যায়ের কোনো আত্মঘাতী সিদ্ধান্তে তা ধূলিসাৎ হয়ে যায়, তাহলে সেই দায় শুধু রাষ্ট্রের একার নয়—আমাদের সবার।
নবোদয়/ এআরজে/ জেডআরসি/ ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬