Loading...

বাতিল ৩১৬ ফ্লাইট, বিশ্বজুড়ে নিন্দা
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে দুজন বাংলাদেশি নাগরিক বলে জানা গেছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেলের এ হামলায় আহত হয়েছেন আরও ৩০৯ জন। কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। হামলার পর বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শত শত ফ্লাইট বাতিল ও বিলম্বিত হয়েছে। এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।


সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে দুজন বাংলাদেশি নাগরিক বলে জানা গেছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেলের এ হামলায় আহত হয়েছেন আরও ৩০৯ জন। কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। হামলার পর বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শত শত ফ্লাইট বাতিল ও বিলম্বিত হয়েছে। এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে চারজন সৌদি নাগরিক। অন্যদের মধ্যে দুজন বাংলাদেশি এবং যুক্তরাষ্ট্র, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, সুদান ও মিসরের একজন করে নাগরিক রয়েছেন। আহতদের রিয়াদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। নিহত বাংলাদেশিদের পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
রয়টার্স জানিয়েছে, শনিবারের হামলা ছিল চলতি সপ্তাহে কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তৃতীয় হামলা। বিস্ফোরণের পর বিমানবন্দরের ভেতরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা আহত যাত্রীদের মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন। অ্যাম্বুলেন্স ও হেলিকপ্টারে করে আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হয়। অভ্যন্তরীণ টার্মিনালের ৪০৩ নম্বর গেটে থাকা এক যাত্রী এএফপিকে জানান, তাঁর চোখের সামনেই ৪০১ নম্বর গেটে হামলা হয়। এরপর যাত্রীরা প্রাণ বাঁচাতে ছোটাছুটি শুরু করেন।
হুতিদের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল-বুখাইতি হামলার দায় স্বীকার করে দাবি করেছেন, ইয়েমেনে সৌদি সামরিক অভিযানের প্রতিশোধ নিতে এই হামলা চালানো হয়েছে। এর আগে হুতিরা সৌদি আকাশসীমাকে সামরিক অভিযানক্ষেত্র ঘোষণা করে বিমান সংস্থাগুলোকে সতর্ক করেছিল। তবে শনিবারের হামলার আগে সৌদি সতর্কীকরণ ব্যবস্থা কোনো সংকেত দেয়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
বাতিল ৩১৬ ফ্লাইট
ফ্লাইট পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ফ্লাইটরাডার২৪-এর ১০ অক্টোবরের তথ্য অনুযায়ী, রিয়াদ বিমানবন্দরে ১৫৫টি আগমনী ও ১৬১টি বহির্গামী ফ্লাইট বাতিল দেখানো হয়। সব মিলিয়ে বাতিল ফ্লাইটের সংখ্যা ৩১৬। একই সময়ে ২২২টি ফ্লাইট বিলম্বিত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। নিরাপত্তার কারণে অনেক আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বিকল্প বিমানবন্দরে সরিয়ে নেওয়া হয়।
বাংলাদেশের জাতীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ঢাকা-রিয়াদ-ঢাকা রুটের দুটি ফ্লাইট, বিজি-৩৩৯ ও বিজি-৩৪০, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করেছে। এ ছাড়া ১১ অক্টোবর ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রকাশিত সূচিতে রিয়াদগামী সৌদি এয়ারলাইনসের এসভি-৮০৫ এবং রিয়াদ এয়ারের আরএক্স-৭৬৪ ফ্লাইটও বাতিল দেখানো হয়েছে। অর্থাৎ ওই দিনের সূচিতে ঢাকা থেকে রিয়াদগামী অন্তত তিনটি ফ্লাইট বাতিল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের ইতিহাদ এয়ারওয়েজ ৯ অক্টোবর আবুধাবি-রিয়াদ রুটে ছয়টি এবং ১০ অক্টোবর আরও দুটি ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দেয়। ভারতের আকাসা এয়ার আগেই দুটি নির্ধারিত ফ্লাইট বাতিল করেছে। এয়ার ইন্ডিয়া, ইন্ডিগো ও এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসও রিয়াদগামী সেবা স্থগিত করে। জার্মানির লুফথানসা গ্রুপ ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদের ফ্লাইট স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। ফ্লাইদুবাই, কাতার এয়ারওয়েজ ও কুয়েত এয়ারওয়েজের কার্যক্রমও বিঘ্নিত হয়েছে। তবে দেশভিত্তিক সব বাতিল ফ্লাইটের পূর্ণাঙ্গ সংখ্যা এখনো প্রকাশিত হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের কঠোর প্রতিক্রিয়া
হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি বলেছেন, এ ধরনের হামলায় নিরীহ মানুষের জীবনের প্রতি চরম অবজ্ঞা প্রকাশ পেয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র অংশ নেবে কি না, তা বিবেচনা করা হচ্ছে।
কাতার হামলাকে সৌদি সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি হিসেবে বর্ণনা করেছে। বাহরাইন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কঠোর পদক্ষেপ দাবি করেছে। সাম্প্রতিক হামলাগুলোর নিন্দা জানিয়ে সৌদি আরবের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, ভারত ও পাকিস্তান। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সৌদি আরবের আত্মরক্ষার অধিকারকে সমর্থন করেছেন।
যুক্তরাজ্য, আয়ারল্যান্ড, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস নিজ নিজ নাগরিকদের রিয়াদ বিমানবন্দর এবং আশপাশের এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। জাপানও বেসামরিক স্থাপনায় হুতি হামলার নিন্দা জানিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিমান নিরাপত্তা সংস্থা সৌদি আকাশসীমায় উড্ডয়নসংক্রান্ত ঝুঁকির সতর্কতা সম্প্রসারিত করেছে।
এদিকে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট হামলাকে যুদ্ধাপরাধ আখ্যা দিয়ে কঠোর জবাব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। রিয়াদের হামলার কয়েক ঘণ্টা পর দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছেও একটি প্রজেক্টাইল আঘাত হানার তথ্য জানিয়েছে জোট।
২০২২ সালের যুদ্ধবিরতি চলতি বছরের জুলাইয়ে ভেঙে পড়ার পর সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে সংঘাত আবার তীব্র হয়েছে। নতুন হামলায় বেসামরিক বিমান চলাচল ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্যও ঝুঁকিতে পড়েছে। রিয়াদে নির্ধারিত গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও বিনিয়োগ সম্মেলনগুলো আয়োজনের সিদ্ধান্ত বহাল থাকলেও অংশগ্রহণকারীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
নবোদয়/ এসএন/ ১১ অক্টোবর ২০২৬