Loading...

সাংবাদিকদের নিরাপত্তায় বিএনপির প্রতিশ্রুতি
সংবাদ সংগ্রহে বাধা, খবর প্রকাশের পর হুমকি, কখনো সরাসরি হামলা—পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিরাপত্তার ঝুঁকিতে পড়ছেন সাংবাদিকেরা। বর্তমান সরকারের আমলে এসব ঘটনায় অভিযোগ উঠছে ক্ষমতাসীন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। ।


সংবাদ সংগ্রহে বাধা, খবর প্রকাশের পর হুমকি, কখনো সরাসরি হামলা—পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিরাপত্তার ঝুঁকিতে পড়ছেন সাংবাদিকেরা। বর্তমান সরকারের আমলে এসব ঘটনায় অভিযোগ উঠছে ক্ষমতাসীন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।
কয়েকটি ঘটনায় দলীয় বহিষ্কার ও মামলা হলেও তদন্ত ও বিচারের অগ্রগতির নাই বললেই চলে। সাংবাদিকদের সুরক্ষার অঙ্গীকারের মধ্যে এসব ঘটনা সামনে এনেছে নিরাপত্তা এবং অভিযুক্তদের আইনি জবাবদিহির প্রশ্ন।
ধামরাইয়ে সংবাদ সম্মেলনে ডেকে সাংবাদিকদের ‘সাংবাদিকতা শিখিয়ে দেওয়ার’ হুমকি দিয়েছেন বিএনপির সংসদ সদস্য তমিজ উদ্দিন। একই দিন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলায় আহত হয়েছেন চার সাংবাদিক। এ হামলার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। রবিবারের এই দুই ঘটনা সামনে এনেছে ক্ষমতাসীন দল ও সহযোগী সংগঠনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং পরবর্তী জবাবদিহির প্রশ্ন।
বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী ও অনুসারীদের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের উপর অন্তত ২১টি হামলা, হুমকি ও বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে। এসব ঘটনায় ২৬ সাংবাদিক আহত হয়েছেন বলেও জানা গেছে।

এই হিসাবে শ্যামনগর, বাঞ্ছারামপুর, চারঘাট, বুড়িচং, ক্ষেতলাল, পটিয়া, গাজীপুর, নরসিংদী, কলাপাড়া, দেবীগঞ্জ, উলিপুর ও দোহারে একজন করে আহতের তথ্য আছে। ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে দুজন, শরীয়তপুরে তিনজন, কেশবপুরে অন্তত পাঁচজন এবং রাবিতে চার সাংবাদিক আহত হয়েছেন। হাতীবান্ধা, লালপুর ও বাগাতিপাড়ার হামলা, সিলেটে হেনস্তা খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া রবিবার ধামরাইয়ে সাংবাদিকদের হুমকিও দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া শ্যামনগরে বালু উত্তোলন, চারঘাটে মাদ্রাসার মাটি নেওয়া, গাজীপুরে সরকারি জমি দখল এবং হাতীবান্ধায় অতিরিক্ত টোলের খবর সংগ্রহের পর হামলার অভিযোগ ওঠে। রাবিতেও অস্ত্রধারীদের ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে সাংবাদিকেরা আক্রান্ত হয়েছেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য।
শ্যামনগরে সাংবাদিক সামিউল আযম মনিরের ওপর হামলায় যুবদলের চার নেতা, চারঘাটে শাহিনুর রহমান সুজনের ওপর হামলায় বিএনপির দুই নেতা, কলাপাড়ায় মোয়াজ্জেম হোসেনের ওপর হামলায় ছাত্রদলের একজন এবং লালপুরে দুই সাংবাদিককে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় ছাত্রদলের তিন কর্মী বহিষ্কৃত হয়েছেন। মোট ১০ জনের মধ্যে চারঘাটের দুজনের বহিষ্কার ছিল সাময়িক।
যদিও ২ মার্চ শ্যামনগরের হামলায় মামলার পর দুজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। এছাড়া বুড়িচংয়ে ২২ এপ্রিল, হাতীবান্ধায় ২ মে এবং পটিয়ায় ১১ জুন মামলা হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে। নরসিংদীর ঘটনায় আদালতে মামলা করার তথ্য এসেছে জুলাইয়ে। কিন্তু প্রশ্ন হলো শুধু বহিষ্কার বা গ্রেপ্তারই কি শাস্তি বা বিচারের একমাত্র উপায়? আর এসব মামলার অগ্রগতিও নাই বললেই চলে।

শরীয়তপুরে ২৫ আগস্ট তিন সাংবাদিকের ওপর হামলার পর লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। ২৭ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদনে অভিযোগটি তখনো মামলা বা জিডি হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়নি। উল্টো সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির পাল্টা অভিযোগ দেন অভিযুক্ত পক্ষ।
এদিকে দেবীগঞ্জে ২৪ জুলাই সাংবাদিক লালন সরকারকে মারধরের অভিযোগ ওঠে ছাত্রদলের নেতাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। পরে চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তার হন আহত সাংবাদিক নিজেই। তার স্ত্রীর অভিযোগ, হামলার অভিযোগ নিতে চায়নি পুলিশ। অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
রাবির সর্বশেষ ঘটনায় প্রশাসন মামলা করার আশ্বাস দিয়েছে। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংগঠন দুই সদস্যের তদন্ত কমিটিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলেছে। এ ঘটনা আহত মোট অন্তত ১০ জনের মধ্যে চারজন সাংবাদিক। ছাত্রদল সভাপতি হামলার দায় শিবিরের ওপর চাপিয়ে ঘটনাকে ভুল বোঝাবুঝি বলেছেন।
ধামরাইয়ে তমিজ উদ্দিন বিএনপির বিরুদ্ধে ‘অন্যায়ভাবে’ কিছু বললে সাংবাদিকতা শেখানোর হুমকি দেন; পরে যাচাই করে সংবাদ প্রকাশের আহ্বানও জানান।
নির্বাচনি ইশতেহারে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও নির্যাতনের বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিএনপি। কিন্তু অদিকাংশ ঘটনার ক্ষেত্রেই দেখা উল্লেখযোগ্য কোনো শাস্তি দেওয়া হয়নি। বড়জোর গ্রেপ্তার ও বহিষ্কার করা হয়েছে।আবার কোথাও কোথাও উল্টো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে। এখন প্রশ্ন উঠছে, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কতদূর?
নবোদয়/ এসএন/ জেডআরসি/ ০৫ অক্টোবর ২০২৬