Loading...

চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার সিএনজিচালক চালক সুমন
পুলিশ বলছে, বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে নির্ধারিত পথ থেকে অটোরিকশা ঘুরিয়ে তাজমিনকে নির্জন স্থানে নিয়ে যান চালক সুমন মিয়া। সেখানে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করা হয়।


গভীর রাত। বাবার হোয়াটসঅ্যাপে নিজের ‘লাইভ লোকেশন’ পাঠিয়েছিল সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিন। জানান তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার আকুতি। সময় তখন রাত ২টা ৫৮ মিনিট। কিন্তু বাবা ঘুমিয়ে থাকায় বার্তাটি তখন দেখতে পারেননি। পরদিন সকালে কুমিল্লার লালমাইয়ের একটি ধানখেত থেকে উদ্ধার হয় তাজমিনের মরদেহ।
পুলিশ বলছে, বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে নির্ধারিত পথ থেকে অটোরিকশা ঘুরিয়ে তাজমিনকে নির্জন স্থানে নিয়ে যান চালক সুমন মিয়া। সেখানে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় সুমনকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোনটিও উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) কুমিল্লা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার তদন্তে পাওয়া তথ্য তুলে ধরেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) পঙ্কজ বড়ুয়া। তিনি জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার গভীর রাতে পদুয়ার বাজার এলাকা থেকে রেসকোর্সের বাসায় যাওয়ার জন্য সুমনের সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করে তাজমিন। কিন্তু শহরের দিকে না গিয়ে চালক অটোরিকশাটি বিজরা হয়ে লালমাইয়ের জগতপুর এলাকার দিকে নিয়ে যান। দীর্ঘ সময় অপরিচিত পথে চলার পর বিপদ বুঝতে পেরে বাবাকে নিজের অবস্থান পাঠিয়েছিল তাজমিন।
একপর্যায়ে নির্জন সড়কে অটোরিকশা থামানো হলে তাজমিন নিজেকে রক্ষার চেষ্টা করে। পুলিশের বর্ণনা অনুযায়ী, প্রতিরোধের সময় চালকের সঙ্গে তার ধস্তাধস্তি হয় এবং অটোরিকশাটি সড়কের পাশের ধানখেতে কাত হয়ে পড়ে। তাজমিন দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত নিজেকে রক্ষা করতে পারেনি। তাকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের তথ্য উল্লেখ করে দাবি করেছে পুলিশ।

হত্যার পর তাজমিনের ব্যাগ থেকে আইফোনটি নিয়ে ঘটনাস্থল ছাড়েন অভিযুক্ত ব্যক্তি—এমনটাই জানিয়েছে পুলিশ। ফোনটি বাখরাবাদ এলাকার একটি পুকুরপাড়ের ঝোপে লুকিয়ে রেখে তিনি চট্টগ্রামে চলে যান। অন্যদিকে ঘটনাস্থলে পড়ে থাকে অটোরিকশাটি। গাড়িটির নিবন্ধন নম্বর ও অন্যান্য তথ্য ধরে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। পরে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় শুক্রবার চট্টগ্রাম নগরী থেকে সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে লালমাই উপজেলার জগতপুর এলাকার ধানখেত থেকে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পাশেই পাওয়া যায় পরিত্যক্ত অটোরিকশা ও তার ভ্যানিটি ব্যাগ। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ শনাক্ত করেন।
তাজমিন কুমিল্লা নগরের রেসকোর্স এলাকায় পরিবারের সঙ্গে থাকত এবং ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। গত ৪ অক্টোবর বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে সে বাসা থেকে বের হয়েছিল। কয়েক দিন পর গভীর রাতে বাড়ি ফেরার পথে বাবার কাছে পাঠানো অবস্থান ও সহায়তার বার্তাই হয়ে ওঠে পরিবারের সঙ্গে তার শেষ যোগাযোগ।
তাজমিনের বাবা আবদুল আলিম বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, সুমনকে আদালতে সোপর্দ করার পাশাপাশি ঘটনায় অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা তদন্ত করা হচ্ছে।
নবোদয়/ এআরজে/ জেডআরসি/ ১০ অক্টোবর ২০২৬