Loading...

‘দুটি সন্তানের বেশি নয়, একটি হলে ভালো হয়’ : ১ ডিসেম্বর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, দেশব্যাপী বড় ধরনের জনসচেতনতামূলক প্রচারের পাশাপাশি মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় পরিবার পরিকল্পনা সেবা ও জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হবে।


দেশে মোট প্রজনন হার বৃদ্ধি এবং জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির ব্যবহার কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে বছরব্যাপী পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। ‘দুটি সন্তানের বেশি নয়, একটি হলে ভালো হয়’ স্লোগানে আগামী ১ ডিসেম্বর শুরু হওয়া এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কর্মসূচি চলবে ২০২৭ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত।
বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, দেশব্যাপী বড় ধরনের জনসচেতনতামূলক প্রচারের পাশাপাশি মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় পরিবার পরিকল্পনা সেবা ও জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হবে।
একসময় বাংলাদেশের পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হতো। কর্মসূচির ব্যাপক প্রসারের ফলে একজন নারীর জীবদ্দশায় সন্তান জন্মদানের গড় সংখ্যা বা মোট প্রজনন হার ১৯৭৫ সালের ৬ দশমিক ৩ থেকে কমে ২০১২ সালে ২ দশমিক ৩-এ নেমেছিল। তবে এক দশকের বেশি সময় একই পর্যায়ে থাকার পর এই হার আবার বেড়ে ২ দশমিক ৪-এ দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে বা মিকস ২০২৫-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারের হারও ৬২ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে কমে ৫৮ দশমিক ২ শতাংশ হয়েছে। একই সঙ্গে পরিবার পরিকল্পনা সেবার অপূর্ণ চাহিদা বা ‘আনমেট নিড’ বেড়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, প্রাথমিক স্তর থেকে সচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু করা হবে। জারি ও সারি গান, খেলাধুলাসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মাধ্যম ব্যবহার করে পরিবার পরিকল্পনার বার্তা প্রচার করা হবে। তবে কর্মসূচি কেবল প্রচারণার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ এবং মাঠপর্যায়ের সেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগও এতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের জুলাই থেকে পঞ্চম স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি সেক্টর কর্মসূচি অনুমোদিত না হওয়া এবং পরবর্তী সময়ে সেক্টর কর্মসূচি থেকে সরে আসায় জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী কেনার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এর প্রভাবে মাঠপর্যায়ে কনডম, খাবার বড়ি, আইইউডি, ইনজেকশন ও ইমপ্ল্যান্টসহ বিভিন্ন সামগ্রীর সংকট তৈরি হয়েছে।
অধিদপ্তরের সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট পোর্টালের তথ্য অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের ১৯৮টি উপজেলায় কনডমের মজুত পুরোপুরি শেষ হয়েছে। একইভাবে ৩৫৪টি উপজেলায় জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি এবং ৪২৮টি উপজেলায় আইইউডির মজুত নেই।
পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. জিনাত রেহানা বলেন, অপারেশনাল প্ল্যান বন্ধ থাকার কারণে গত দুই বছর মাঠপর্যায়ে গর্ভনিরোধক সরবরাহ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। নতুন প্রকল্পের আওতায় জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী কেনার প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ডিসেম্বর নাগাদ এসব সামগ্রী সংগ্রহ করে মাঠপর্যায়ে বিতরণ শুরু করার আশা করা হচ্ছে।
পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমে জনবল সংকটও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অধিদপ্তরের হিসাবে, প্রয়োজনীয় জনবলের প্রায় ৩৭ শতাংশ পদ শূন্য। পরিবার কল্যাণ সহকারীসহ প্রায় ১৯ থেকে ২০ হাজার কর্মী ঘাটতি থাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে নিয়মিত সেবা দেওয়া কঠিন হচ্ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ মাইনুল ইসলাম বলেন, জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি ইতিবাচক হলেও শুধু প্রচারণায় কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না। পর্যাপ্ত গর্ভনিরোধক সামগ্রী, দক্ষ সেবাদাতা এবং নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে অনিচ্ছাকৃত গর্ভধারণের ঝুঁকিতে থাকা নারী, বাল্যবিবাহপ্রবণ এলাকা, সেবাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী এবং দ্রুত বাড়তে থাকা শহুরে অভিবাসীদের লক্ষ্য করে আলাদা কার্যক্রম নেওয়ার তাগিদ দেন তিনি।
নবোদয়/ এআরজে/ জেডআরসি/ ০৮ অক্টোবর ২০২৬