Loading...

ঝুঁকিতে বাংলাদেশসহ আমদানিনির্ভর দেশ
পণ্যবাজার বিশ্লেষক সংস্থা কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে এশিয়ার এলএনজি আমদানি প্রায় ২০ মিলিয়ন টনে নেমে আসতে পারে। গত বছরের একই মাস এবং চলতি বছরের আগস্টেও আমদানি ছিল অন্তত ২২ মিলিয়ন টন। সেই হিসাবে এক মাসের ব্যবধানে আমদানি কমছে প্রায় ৯ শতাংশ। উচ্চমূল্যের কারণে বছরের বাকি সময়েও এশিয়ায় এলএনজির চাহিদা নিম্নমুখী থাকতে পারে।


বিশ্ববাজারে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দাম বাড়তে থাকায় নতুন চাপ তৈরি হয়েছে এশিয়ার আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর। উচ্চমূল্যের কারণে এশিয়ার বিভিন্ন দেশ স্পট মার্কেট থেকে কেনাকাটা কমালেও আসন্ন শীতের প্রস্তুতিতে চড়া দামেই এলএনজি সংগ্রহ ও মজুত করছে ইউরোপ। এতে সীমিত সরবরাহ নিয়ে প্রতিযোগিতা বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি এশিয়ায় জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
পণ্যবাজার বিশ্লেষক সংস্থা কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে এশিয়ার এলএনজি আমদানি প্রায় ২০ মিলিয়ন টনে নেমে আসতে পারে। গত বছরের একই মাস এবং চলতি বছরের আগস্টেও আমদানি ছিল অন্তত ২২ মিলিয়ন টন। সেই হিসাবে এক মাসের ব্যবধানে আমদানি কমছে প্রায় ৯ শতাংশ। উচ্চমূল্যের কারণে বছরের বাকি সময়েও এশিয়ায় এলএনজির চাহিদা নিম্নমুখী থাকতে পারে।
বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে ইউরোপে। শীতের আগে গ্যাসের মজুত বাড়াতে সেপ্টেম্বরে প্রায় ৮ মিলিয়ন টন এলএনজি আমদানি করছে মহাদেশটি। অক্টোবর নাগাদ এই চাহিদা সাড়ে ১০ মিলিয়ন টনে উঠতে পারে। পুরো বছরে ইউরোপের এলএনজি আমদানি প্রায় ১২৫ মিলিয়ন টনে পৌঁছানোর পূর্বাভাস রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির সংকট এবং মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান উৎপাদক কাতার থেকে সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বৈশ্বিক এলএনজি বাজারে অস্থিরতা বেড়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর পর বিশ্ববাজারে এলএনজির দাম প্রায় ১৫০ শতাংশ বেড়েছে। নিষেধাজ্ঞার কারণে ইউরোপে রাশিয়ার গ্যাস সরবরাহকারী প্রধান পাইপলাইনগুলোও বন্ধ রয়েছে।

ফলে ইউরোপের হাতে স্পট মার্কেট থেকে উচ্চমূল্যে এলএনজি কেনা ছাড়া বিকল্প কম। ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পরও একইভাবে চড়া দামে গ্যাস কিনেছিল ইউরোপ। পরে চাহিদা ও দাম কমে যাওয়ায় কয়েকটি প্রতিষ্ঠান লোকসানে পড়েছিল। তবে ওই সময় রাশিয়ার কিছু পাইপলাইন আংশিক সচল থাকলেও এবার সেই সুযোগ নেই।
সংকটের মধ্যে তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে চীন। স্পট মার্কেটের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে দেশটি এলএনজি সরবরাহ নিশ্চিত করছে। একই সঙ্গে রাশিয়া থেকে স্থলপথে গ্যাস আমদানি অব্যাহত রেখে কাতারের সরবরাহঘাটতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে দেশটি।
কিন্তু বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর সামনে এমন বিকল্প সীমিত। কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানকে একই সঙ্গে মূল্য ও সরবরাহ—দুই ধরনের ঝুঁকি মোকাবিলা করতে হচ্ছে। ইউরোপ বেশি দাম দিয়ে বাজারের বড় অংশ কিনে নিলে এসব দেশের জন্য প্রয়োজনীয় এলএনজি সংগ্রহ আরও কঠিন হতে পারে।
চড়া দামে এলএনজি কিনতে না পারা উন্নয়নশীল দেশগুলোর একটি অংশ ইতোমধ্যে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াচ্ছে। পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে বাংলাদেশেও বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়, শিল্পে গ্যাস সরবরাহ এবং সরকারি ভর্তুকির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নবোদয়/ এআরজে/ জেডআরসি/ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬