Loading...

ঘাটতি ছাড়িয়েছে দুই হাজার মেগাওয়াট
পাওয়ার গ্রিডের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার দুপুর ২টায় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ৮৬০ মেগাওয়াট। বিপরীতে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয় ১৪ হাজার ২৪৩ মেগাওয়াট। এ সময় ঘাটতি দাঁড়ায় এক হাজার ৬১৭ মেগাওয়াটে।


তীব্র গরমে শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র ও বৈদ্যুতিক পাখার ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। কিন্তু সেই চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে উৎপাদন বাড়ানো যাচ্ছে না। বড় কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় না চলায় জাতীয় গ্রিডে আবারও বড় ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে রাজধানীর বাইরে অনেক এলাকায় দিন ও রাতে পালাক্রমে লোডশেডিং চলছে।
পাওয়ার গ্রিডের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার দুপুর ২টায় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ৮৬০ মেগাওয়াট। বিপরীতে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয় ১৪ হাজার ২৪৩ মেগাওয়াট। এ সময় ঘাটতি দাঁড়ায় এক হাজার ৬১৭ মেগাওয়াটে।
একই দিন দুপুর ১২টার সর্বোচ্চ চাহিদার সময়ে বিদ্যুতের প্রয়োজন ছিল ১৫ হাজার ৩২৮ মেগাওয়াট। সরবরাহ করা হয় ১৩ হাজার ৯২১ মেগাওয়াট। ফলে ওই সময় লোডশেডিংয়ের পরিমাণ ছিল এক হাজার ৪০৭ মেগাওয়াট।
রাতের পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে উঠছে। মঙ্গলবার রাত ৯টায় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৯৮৭ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ হয় ১৬ হাজার ৯ মেগাওয়াট। ঘাটতি ছিল ৯৭৮ মেগাওয়াট। তবে রাত ১টার দিকে ঘাটতি বেড়ে দুই হাজার ৩৮৭ মেগাওয়াটে পৌঁছায়।
বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ার পেছনে বড় কয়েকটি কেন্দ্রের সীমিত উৎপাদনকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এক হাজার ২৩৫ মেগাওয়াট সক্ষমতার রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বুধবার দুপুরে উৎপাদন হয়েছে ৭৫০ মেগাওয়াট। কারিগরি ত্রুটির কারণে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদনও কমেছে। পাশাপাশি ভারতের আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ আরও কয়েকটি বড় কেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় না চলায় জাতীয় গ্রিডে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ যোগ হচ্ছে না।

বুধবার দুপুর ১২টায় দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল ২৬৩ কোটি ৫০ লাখ ঘনফুট। এর মধ্যে দেশীয় উৎস থেকে পাওয়া গেছে ১৬১ কোটি ৮০ লাখ ঘনফুট। আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি থেকে এসেছে ১০১ কোটি ৭০ লাখ ঘনফুট।
জাতীয় পর্যায়ের উৎপাদন ঘাটতির বড় ধাক্কা পড়ছে আঞ্চলিক বিতরণ ব্যবস্থায়। বরিশাল অঞ্চলে গত দুই দিনে বিদ্যুতের ঘাটতি চাহিদার প্রায় ৪০ শতাংশে উঠেছে। ওজোপাডিকো ও ছয়টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন এ অঞ্চলে সর্বোচ্চ চাহিদা প্রায় ৮৫০ মেগাওয়াট। কিন্তু দিনের ও রাতের সর্বোচ্চ চাহিদার সময়ে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে সাড়ে ৪০০ মেগাওয়াটের মতো।
ফলে বরিশালের বিভিন্ন এলাকায় দিন-রাত পালাক্রমে বিদ্যুৎ বন্ধ রাখা হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে হাসপাতাল, শিল্পকারখানা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে। শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ কয়েকটি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার কথাও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ময়মনসিংহ অঞ্চলেও লোডশেডিংয়ের চাপ বেশি। টাঙ্গাইলের গোপালপুর, মধুপুর, ধনবাড়ী, ভূঞাপুর ও ঘাটাইল এলাকায় সর্বোচ্চ চাহিদার সময় প্রয়োজন হচ্ছে ২৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। বিপরীতে সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ৬ মেগাওয়াট। অর্থাৎ এসব এলাকায় চাহিদার এক-চতুর্থাংশেরও কম বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে।
নবোদয়/ এআরজে/ জেডআরসি/ ০১ অক্টোবর ২০২৬