Loading...

জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে
বাদীর অভিযোগ, হামলাকারীরা প্রায় ৫০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন। এতে প্রকল্পের শ্রমিক ও নিরাপত্তাকর্মীরা প্রাণভয়ে ছোটাছুটি শুরু করেন। বাদীও নির্মাণাধীন ভবনের ভেতরে আশ্রয় নেন।


রাজধানীর ইসিবি চত্বর এলাকার নিউ গিনি আবাসন প্রকল্পে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের কোম্পানির কার্যালয় ও স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও গোলাগুলির ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে ক্যান্টনমেন্ট থানা পুলিশ ও ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এদের একজন শাহ আলম অনিক, যিনি মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক।
ডিএমপির গোয়েন্দা (ডিবি) প্রধান ও অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঘটনায় জড়িতদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। ইতিমধ্যে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যে বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে নিউ গিনি আবাসন প্রকল্পের কার্যালয় ও আশপাশের স্থাপনায়। এর মধ্যে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ‘ব্রাউনফিশ’ও রয়েছে। এ ঘটনায় পরদিন আবাসন প্রকল্পের পরিচালক সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন।
মামলায় ১৩ জনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, জমি দখল ও পূর্বশত্রুতার জেরে আসামিরা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে প্রকল্পে ঢুকে গুলি করে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন। এ সময় প্রকৌশলী ও নিরাপত্তাকর্মীদের মারধর করা হয়।

মামলার বিবরণ অনুযাযী, শনিবার রাত ১১টা ২০ মিনিটে বাদী প্রকল্পে অবস্থান করছিলেন। এ সময় এক নম্বর আসামি শাহরিয়ার মাহমুদের ইন্ধন ও নির্দেশে অন্য আসামিরা এবং অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে প্রকল্পে প্রবেশ করেন। তাদের হাতে শটগান, রিভলবার, চাপাতি, রামদা, ছোরা, রড ও লাঠিসোঁটা ছিল।
বাদীর অভিযোগ, হামলাকারীরা প্রায় ৫০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন। এতে প্রকল্পের শ্রমিক ও নিরাপত্তাকর্মীরা প্রাণভয়ে ছোটাছুটি শুরু করেন। বাদীও নির্মাণাধীন ভবনের ভেতরে আশ্রয় নেন।
এজাহারে বলা হয়েছে, হামলাকারীরা প্রকল্পের সাইট ইঞ্জিনিয়ার পারভেজকে মারধর করে জখম করেন। দুই নম্বর আসামি আবুল কাশেম রিভলবারের মাথা দিয়ে পারভেজের মাথায় আঘাত করেন। এতে তার মাথা ফেটে যায়।
পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে পারভেজের ডান পায়ের হাঁটুর নিচে, বাম হাত ও পিঠে কোপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তার পকেটে থাকা সাত হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
পারভেজকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে প্রকল্পের নিরাপত্তাকর্মী সৈয়দ নজরুল ইসলামকেও মারধর করা হয়। তার কাছ থেকে নিরাপত্তার কাজে ব্যবহৃত একটি ওয়্যারলেস সেট, দুই হাজার টাকা ও একটি আইটেল বাটন ফোন নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে মামলায়।
এজাহারে বলা হয়, আসামিরা প্রকল্পের মূল ফটকে ১০ রাউন্ড গুলি করেন। এ সময় লোহার গেইট, থাই গ্লাস ও কাঁচের গেট ভাঙচুর করা হয়। এতে আনুমানিক ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

এরপর হামলাকারীরা প্রকল্পের অফিসকক্ষে ঢুকে চারটি কম্পিউটার মনিটর, চারটি ডিডিআর, একটি এলজি ফ্রিজ, সাতটি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ল্যাপটপ, চারটি কাঠের টেবিল, আটটি চেয়ার ও একটি কাঠের আলমারি ভাঙচুর করেন বলে এজাহারে বলা হয়েছে। এতে আরও ১২ লাখ টাকার ক্ষতি হওয়ার কথা বলছেন বাদী।
এজাহার অনুযায়ী, অফিসকক্ষের লকার ভেঙে নির্মাণসামগ্রী কেনার জন্য রাখা ২৫ লাখ টাকা নিয়ে যান হামলাকারীরা। এ ছাড়া নির্মাণকাজের জন্য রাখা একেএস কোম্পানির ১০ ও ২০ মিলিমিটারের ২৩ টন রড, যার আনুমানিক মূল্য ২০ লাখ ৮০ হাজার টাকা, নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
প্রকল্পের ক্রিস্টাল প্লেস ভবনের সামনে রাখা ফ্ল্যাট মালিক সুমনের চার লাখ টাকা মূল্যের একটি সিএফ মোটর স্কুটারও নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন বাদী। এজাহারে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা মারওয়া টাওয়ারের নিচতলার স্টোররুমে ঢুকে নির্মাণকাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যান।
মামলায় নাম উল্লেখ করা ১৩ আসামির মধ্যে রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরী, শাহরিয়ার মাহমুদ, আবুল কাশেম, বাবুল হোসেন, মোহাম্মদ শাহিনুজ্জামান, মতিউর রহমান, মজিবুর রহমান, নুরুল ইসলাম, মিজানুর রহমান, এমকে আজাদ, মামুন, আসলাম ও মুন্না। এজাহারে শাহরিয়ার মাহমুদকে এক নম্বর আসামি করা হয়েছে। তার ইন্ধন ও নির্দেশে অন্য আসামিরা হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন বাদী।
মামলার এজাহারে টিভি, উচ্চমাত্রার এডিটিং ক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটার, সার্ভার সেটআপ, গিটার, পানির ট্যাংক, মেমোরি কার্ড, সাউন্ড কার্ড, ক্যামেরা, ট্রাইপড, মাইক্রোফোন, ফার্নিচার, ভিবিএস কয়েনসহ ৩৭ ধরনের জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। এজাহারে এসব জিনিসপত্রের যে অর্থমূল্য উল্লেখ করা হয়েছে, তার মোট মূল্য কয়েক কোটি টাকা বলে দাবি করা হয়েছে।
নবোদয়/ জেডআরসি/ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬